বিদায় বেলাতেও বড় মাছ শিকার করে গেলেন আদুরিজ

ররি স্মিথ কোন কুক্ষণেই যে প্রতিবেদনটা লিখতে গেলেন! আরিজ আদুরিজ অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিলেন। এবারের কোপা ডেল রে ফাইনাল খেলেই প্রিয় অ্যাথলেটিক বিলবাওকে বিদায় বলে দেবেন। প্রিয় এই ক্লাবের টানে বারবার ফিরে এসেছেন। সেই ক্লাবই কিনা তাঁর বিদায়ী বছরে বহুদিন পর কোপা ডেল রের ফাইনালে উঠে গেছে। স্বপ্নের মতো বিদায় তো একেই বলে। শিরোপা জিতুন আর না জিতুন, একটি ফাইনালে প্রিয় সমর্থকদের এভাবে বিদায় কজন বলতে পারে? করোনাভাইরাস এই স্বপ্নে বাধ সেধেছে। শুধুমাত্র এই অনুজীবের কারণেই কোপা ডেল রের ফাইনালের দিনক্ষণ আর ঠিক করা যাচ্ছিল না। ১৮ এপ্রিলের ফাইনাল পেছাতে পেছাতে আগামী বছরেও যেতে পারে। কারণ দর্শক ছাড়া ফাইনাল খেলার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে বিলবাও এবং রিয়াল সোসিয়েদাদ। তাই ররি স্মিথ নিউইয়র্ক টাইমসে কলাম লিখেছেন, 'ক্যারিয়ারের শেষ দিনটা বেছে নিয়েছেন তিনি, কিন্তু এখন সেটা নাও আসতে পারে।'কী ভয়ংকর সত্য হয়ে এল কথাটি। ১৯ তারিখের প্রতিবেদন ২০ তারিখেও হয়তো অনেকের পড়ে হয়ে ওঠা হয়নি। এর মাঝেই দিন পেরোনোর আগেই এক দুঃসংবাদ, অবসর নিয়ে ফেলেছেন আরিজ আদুরিজ! স্মিথের প্রতিবেদন নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে শেয়ার দিয়েছিলেন আদুরিজ। টুইটারেই ক্ষণিক পরে হতাশার খবরটা জানালেন। লম্বা চিঠিটার শুরুটা এভাবে, 'সময়টা চলে এল। বহুবার বলেছি, তুমি ছাড়ার আগে ফুটবল তোমাকে ছেড়ে যাবে। গতকাল, ডাক্তাররা আমাকে বলল খুব দ্রুত কোনো শল্য চিকিৎসকের কাছে যেতে। যত দ্রুত সম্ভব আমার কোমরের হাড় বদলে প্রস্থেটিক বসাতে। এবং এই কৃত্রিম অংশটুকু নিয়ে যতটুকু সম্ভব স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে। দুঃখজনকভাবে আমার শরীর আমাকে বলে দিচ্ছে, “যথেস্ট হয়েছে।”' ৩৯ বছর হয়ে গেছে। ৭৮০টি পেশাদার ক্লাব ফুটবল ম্যাচ খেলেছেন, তাতে ২৮৫টি গোল করেছেন। স্পেনের হয়ে খেলছেন, জন্মভূমি বাস্ক অঞ্চলের জাতীয় দলের হয়েও আছে ১২ গোল। ক্যারিয়ারে অপূর্ণতা বলতে একটিই, কোনো লিগ বা কাপ জেতা হলো না তাঁর। তবে ঘরোয়া ফুটবলের একটি শিরোপা ঠিকই বাগিয়ে নিয়েছিলেন, তাঁর সুবাদেই বহুদিন পর কোনো সাফল্যের মুখ দেখেছিল বিলবাও। ২০১৫ মৌসুমেই সর্বশেষ কোপা দেল রের ফাইনাল খেলেছিল বিলবাও। তাতে হারলেও স্প্যানিশ সুপার কাপে আবারও সুযোগ এল। সদ্য ট্রেবলজয়ী বার্সেলোনার মুখোমুখি হয়েছিল দলটি। এবার আদুরিজের হ্যাটট্রিকসহ ৪ গোলে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ ব্যবধানে শিরোপা জিতে নিয়েছিল বিলবাও। ক্যারিয়ারের শেষবেলাতেও বার্সেলোনাকে ভুগিয়েছেন। গত ১৬ আগস্ট বিলবাওর মাঠে খেলতে গিয়েছিল বার্সেলোনা। ম্যাচের পুরো সময় দুই গোল বহু চেষ্টা করেও গোল পায়নি। শেষ মুহূর্তে বদলি নেমেই কাণ্ডটা ঘটিয়েছিলেন আদুরিজ। ৮৯ মিনিটে এক বাইসাইকেল কিকে হারিয়ে দিয়েছিলেন বার্সেলোনাকে। এটাই হয়ে থাকল তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ গোল! বিদায়ী বার্তাতেও আদুরিজ দেখালেন, কেন তাঁকে সবাই এত ভালোবাসে, সার্জিও রামোসের মতো ব্যক্তিও কেন সবার আগে এসে ভালোবাসা জানান। ফাইনাল খেলে বিদায় নিতে পারছেন না এ নিয়ে তাঁর মাঝে কোনো আফসোস নেই। বরং করোনাকালে এই সময়ে তাঁর বিদায়ে মন খারাপ করাটা মানানসই নয় সেটাই মনে করিয়ে দিয়েছেন, 'আমার সতীর্থদের যেভাবে সাহায্য করতে চাই, ওদের যেটা প্রাপ্য, সেটা আমি আর পারছি না। এটাই একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদের জীবনের গল্প। খুবই সরল সত্য। দুঃখজনকভাবে, আমরা এমন এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যা আরও বেশি মন খারাপ করার মতো এবং কষ্টকর। এই মহামারি আমাদের অনেক অপূরণীয় ক্ষতি করে দিয়েছে, এবং আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আমাকে নিয়ে ভেব না, আমি এর মাঝে খুবই ক্ষুদ্র এক গল্প। যে ফাইনাল নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখেছি সেটার কথা ভুলে যাও। কারণ বিদায় বলার সময় আমরা পাব। হ্যাঁ, বিদায় বলার সময় এসেছে এবং দুঃখজনকভাবে আমার পথ এখানেই শেষ হচ্ছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য ও অবিস্মরণীয় এক যাত্রা ছিল এটা। আমার হৃদয়ের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানাই।'