নিম্ন আয়ের সহকর্মীদের পাশে প্রবাসী তারকারা

‘দীর্ঘদিন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, মিডিয়াতে আমাদের ক্রুদের আয় কম। নিয়মিত কাজ না করলে তাঁদের অনেকেই অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে যান। এখন চলমান করোনার এই দুর্যোগে তাঁদের অনেকেই শুটিং না থাকায় ভালো নেই। বেশ কয়েকজন আমাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নক দিয়ে জানান, ভাই কিছু সাহায্য করা যায় না? তখন মনে হলো তাঁদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। ভাবছি, তাঁদের জন্য কী করা যয়। তখন ভাবনা আসে, আমরা যারা প্রবাসে থাকি, তারাও চাইলে এই বিপদে দেশের এই স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য কিছু করতে পারি। তখন ফেসবুকের মাধ্যমে ফান্ড গঠনের জন্য ক্যাম্পেইন শুরু করি।’ কথাগুলো বললেন প্রবাসে থাকা অভিনেতা টনি ডায়েস। এই অভিনেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুটিংয়ের নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য ফেসবুকে ১২ লাখ ৮৫ হাজার টাকার একটি ফান্ড গঠন করেছেন। সেখানে ইতিমধ্যে দেশ–বিদেশের মানুষের সহায়তায় ৯ লাখ টাকার বেশি অনুদান জমা হয়েছে। এর পুরো টাকাই যাবে শুটিংয়ের স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য। ক্যাম্পেইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পেইন থেকে মোটামুটি ভালো একটা সাড়া পেয়েছি। আশা করেছিলাম দ্রুত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। কারণ, আমাদের দেশের প্রচুর মানুষ বিভিন্ন দেশে থাকেন। তাঁরা অল্প কিছু দিলেই আরও বেশি মানুষকে সহায়তা করা যেত।’ তাঁর এই উদ্যোগে সার্বক্ষণিক পাশে ছিলেন শামীম শাহেদ, নির্মাতা ফরহাদ হোসেন, শামসুল আলম বকুলসহ অনেক অভিনয়শিল্পী। টাকা জমা হতে থাকলে এই অভিনেতার ভাবনা শুরু হয়, ঈদের আগে ফান্ডের টাকাগুলো হাতে পাওয়া নিয়ে। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, হাতে টাকা পেতে দেরি হবে। এদিকে ঈদ এগিয়ে আসছে। ক্রুদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য ঈদের আগে নিজের টাকা দিয়ে সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন টনি ডায়েস। ‘পরে ফান্ডের টাকাগুলো পেলে সেখান থেকে সমন্বয় করা যাবে, কিন্তু ঈদ গেলে আর পাওয়া যাবে না। ঈদে তাঁদের অনেকের জন্যই টাকাটা দরকার’—বললেন এই অভিনেতা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পেইনের টাকাটা পেতে কিছুটা দেরি হবে। তখন মনে হয়েছে, টাকা যদি এখন আমি দিয়ে দিই, তাহলে তাঁরা ঈদের খরচটা চালিয়ে নিতে পারবেন। অনেকের পরিবারে হাসি ফুটবে। তখন আমার আদমজী ক্যান্টনমেন্টের বন্ধুদের কাছে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা পাঠাই। সেটা তারা ছোট পর্দার আন্তসংগঠনের কাছে জমা দিয়েছে। আমি খুবই খুশি যে ঈদের আগে এত মানুষ সহায়তা পাচ্ছেন।’ দেশের ছোট পর্দার আন্তসংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনায় এই দুর্যোগে দেশে না থাকলেও বাংলাদেশে টিভি ও সিনেমায় শুটিংয়ে কম আয়ের যেসব কর্মী কাজ করেন, তাঁদের আর্থিক সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছেন প্রবাসে থাকা তানিয়া আহমেদ, রিচি সোলায়মান, শ্রাবন্তীসহ আরও অনেকে। আমেরিকা থেকে অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদ বলেন, ‘মিডিয়ার স্বল্প আয়ের মানুষগুলো আমাদের জন্য পরিশ্রম করেন। তাঁদের এই দুর্দিনে সাহায্য করতে পেরে ভালো লাগছে। সব সময়ই চাই সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে।’ প্রথম দফায় ক্যাম্পেইনের পাঁচ লাখ টাকার চেক হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা মামুনুর রশীদ, ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি সালাহউদ্দিন লাভলু ও ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলিক। নির্মাতা এস এ হক অলিক বলেন, ‘আমরা টনি ডায়েসের অনুদান বুঝে পেয়েছি। আমাদের কাছে অর্থ হস্তান্তর করে টনি ডায়েসের বন্ধুদের সংগঠন “ডিসকাশনস ক্লাব ৮৬”। তার এমন মহৎ উদ্যোগে আমরা খুবই খুশি। তার অর্থ এবং আমাদের বিভিন্ন আন্তসংগঠনের অর্থ মিলে আমরা প্রায় সাড়ে এগার শ স্বল্প আয়ের সহকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছি। যাদের বড় একটা অংশ প্রোডাকশন বয়, লাইটম্যান, মেকআপম্যান, সহকারী পরিচালক, শুটিং গাড়ির ড্রাইভার। আশা করছি, আমাদের এই সহকর্মীরা ঈদের সময়টা পরিবার নিয়ে চলতে পারবেন।’