রায়গঞ্জে করোনায় সাংবাদিকের বাবার মৃত্যু

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানঘরা উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শামসুল হক (৭৭)। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।দীর্ঘদিন ধরে শামসুল হক হৃদ্‌রোগ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। ঢাকায় তিনি তাঁর ছেলে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির যুগ্ম বার্তা সম্পাদক এম এম আনিসুজ্জামানের বাসায় অবসরকালীন বসবাস করছিলেন। আজ সকাল আটটার দিকে রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে শামসুল হকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পৌর কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় অংশ নেন সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সাংসদ মো. আবদুল আজিজ। এ ছাড়া তাঁর পরিবারের সদস্যসহ আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় মানুষ জানাজায় অংশ নেন। কর্মজীবনে শামসুল হক ধানঘরা উচ্চবিদ্যালয়ে ১৯৭৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি শিক্ষক সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন। তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও জেলা শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া দুদকের রায়গঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বড় ছেলে হাজী ওয়াহেদ মরিয়ম অনার্স কলেজের শিক্ষক হাসানুজ্জামান সুলতান, বড় মেয়ে শেরপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক শামছুন্নাহার, মেজ ছেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক এম এম আক্তারুজ্জামান, ছোট ছেলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এম এম আরেফিনজ্জানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর ছেলেমেয়েরা তাঁর বাবার জন্য দোয়া চেয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংসদ আবদুল আজিজ। গুণী এ শিক্ষকের মৃত্যুর খবর জানার পর এলাকায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে শোকের ছায়া। অনেকেই তাঁদের প্রিয় শিক্ষককে নিয়ে লেখা প্রকাশ করেন। মো. আল-আমিন নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, শামসুল হক ছিলেন তাঁর সময়ের থেকে এগিয়ে থাকা মানুষ। তাঁর পাঠদান ছিল আধুনিক। অসংখ্য মানুষ তিনি গড়ে গেছেন। তিনি সব ছাত্রের প্রতি সমান যত্নবান ছিলেন।