কোভিড–১৯–পরবর্তী সময়ে তরুণদের উন্নয়ন নিয়ে ‘লেটস টক’–এ আলোচনা

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে তরুণদের অবদান ও পরবর্তী সময়ে তাঁদের উন্নয়ন নিয়ে অনলাইনে আয়োজন হলো ‘লেটস টক’ অনুষ্ঠানে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এই অনলাইন আয়োজনের দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তরুণদের জোট ‘ইয়াং বাংলা’। এটি আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) সহযোগী প্রতিষ্ঠান। আজ শুক্রবার সিআরআইয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তরুণদের চিন্তা-চেতনা ও দেশ গঠনের নতুন সব ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয় ‘লেটস টক’–এ। ‘কোভিড–১৯–পরবর্তী সময়ে তরুণদের উন্নয়ন’ শিরোনামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন নুজহাত চৌধুরী। অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সরকার মূলত ২০০৯ সাল থেকে (তরুণদের উন্নয়নে) কার্যক্রম শুরু করে। সে সময়ের পরিসংখ্যানটা যদি বলি, আমাদের টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষায় আমাদের এনরোলমেন্ট ছিল শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। এটাকে সম্পূর্ণভাবে অবজ্ঞা করা হয়েছে।’ উপমন্ত্রী বলেন, বিগত ১০ বছরে বর্তমান সরকারের নানামুখী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বর্তমানে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনে মোট শিক্ষার্থীর শতকরা ১৭ ভাগ যুক্ত রয়েছে। শূন্য থেকে ১৭ শতাংশ! উপমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি এটা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। তবে নতুন যে চ্যালেঞ্জগুলো আসছে, বিশেষ করে কোভিড–১৯ চ্যালেঞ্জে তার জন্য এটা যথেষ্ট নয়। তবে আশার কথা, আমাদের তরুণ সমাজে ভোকেশনাল শিক্ষার যে সাংস্কৃতিক ও মানুষিক পরিবর্তন দরকার ছিল, সেটা এসেছে।’ কোভিড–১৯–এর মতো একটি বৈশ্বিক সমস্যার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিল না জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান বলেন, ‘আজ শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্ব ঘরের মধ্যে বন্দী হয়ে গেছে। আজ প্রতিটি সেক্টরই ক্ষতির সম্মুখীন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি সেক্টরে প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে একদম কৃষক পর্যায় পর্যন্ত তিনি প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন।’ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ বলেন, ‘গার্মেন্টসের বেশির ভাগ শ্রমিক যুবক পর্যায়ের। তারা যখন বেতন পাচ্ছিল না, তখন প্রধানমন্ত্রী পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’ যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে একটি প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দরিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় আমরা ইতিমধ্যে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার একটি প্রজেক্ট চিন্তা করেছি। এর মাধ্যমে ১২ লাখ যুবককে আত্মকর্মী হিসেবে তৈরি করব। এমন একটি লক্ষ্যমাত্রা আমরা নির্ধারণ করেছি।’ ব্রাইড ফাউন্ডেশনের স্বর্ণময়ী সরকার বলেন, ‘কোভিড–১৯–এর এই পরিস্থিতিতে তরুণসমাজ হুমকির মুখে পতিত হতে পারে। আমরা মনে করছি যে সেটা আমাদের অর্থনৈতিক ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব পড়বে।’ এদিকে ট্রাভেলস অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সাকিয়া হক বলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে যে কোভিড-১৯–এর যে কেসগুলো দেখছি, আর যে হারে শনাক্তের রেটটা বাড়ছে, তাতে সেপ্টেম্বর অক্টোবরের আগে স্কুল-কলেজ খুলবে কি না, সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। তাই আমার মনে হচ্ছে, অনলাইনের মাধ্যমে যদি কন্টিনিউ ক্লাস করা যায়, তাহলে ভালো হতো।’ অনুষ্ঠানে প্যানেলে আরও ছিলেন বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম, ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. ফারুক হোসেন, ইউএনএফপিএয়ের প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট মোহাম্মদ মুনির হোসেন, বিআইডিএসের জ্যেষ্ঠ গবেষক নাজনিন আহমেদ, বিওয়াইএলসির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট এজাজ আহমেদ, ইয়ুথ নেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের শাকিলা ইসলাম, ডিইউসিএনইউ এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাহরিমা তানজিনা এবং সিআরআইয়ের সৈয়দ মাফিজ কামাল।