ঢাকায় আর্জেন্টিনার ‘রিকশাচালক’

  রিকশা চালাতে পছন্দ করেন বসুন্ধরা কিংসের আর্জেন্টাইন ফুটবলার নিকোলাস দেলমন্তে বসুন্ধরা কিংসে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার হার্নান বার্কোস খেলেন, এটা বোধ হয় সবারই জানা। কিন্তু আরও একজন আর্জেন্টাইন যে আছেন ঢাকার ক্লাবটিতে, তা বোধ হয় অনেকেরই জানা নেই। তিনি নিকোলাস দেলমন্তে। ৭ থেকে ৮ মাসের মধ্যেই বাংলাদেশের পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন বেশ। আপন করে নিয়েছেন বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে। আর্জেন্টাইন এই ডিফেন্ডারকে ঢাকার রাস্তায় রিকশায় ঘুরতে দেখা যায়। আনন্দ নিয়ে কখনো নিজেও চালিয়ে থাকেন রিকশা। নির্মাণশ্রমিকদের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল ছবি তুলে পোস্ট করেন ইনস্টাগ্রামে। বাজারে মুরগির দোকানে গিয়ে করেন রসিকতা। হাতে ক্রিকেট ব্যাট তুলে নিয়ে উল্টাপাল্টা চালাতেও দেখা গেছে বসুন্ধরার এই ফুটবলারকে। তবে আর্জেন্টাইন এই ফুটবলারকে সবচেয়ে বেশি টানে বাংলাদেশের রিকশা। রিকশাচালকদের প্রতি তাঁর সম্মানেরও শেষ নেই। করোনার কারণে খেলা ও অনুশীলন বন্ধ থাকলেও দেশে ফিরে যেতে পারেননি দেলমন্তে। ঢাকায় পুরো অবসর সময় কাটাচ্ছেন তিনি। ঈদের সময়েও বান্ধবীকে নিয়ে রিকশায় ঘুরেছেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য রিকশাচালকেরা যে পরিশ্রম করে থাকেন, তাঁদের প্রতি সম্মান জানিয়েছেন দেলমন্তে, ‘সত্যিকার অর্থেই রিকশাচালকদের প্রশংসা করতে হবে। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনজন মানুষ নিয়ে তাঁরা যেভাবে পরিশ্রম করেন এই গরমের মধ্যে, তা আমাকে অবাক করে। জীবিকা নির্বাহের জন্য তাঁরা কত পরিশ্রম করছেন, এটা জানলে উন্নত দেশগুলোও ওদের বাহবা দেবে।’ ২০০৯ সালে আর্জেন্টিনার অন্যতম শীর্ষ ক্লাব ইন্দিপেন্দিয়েন্তের হয়ে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু। এরপর আলবেনিয়া, মালয়েশিয়া ও স্পেন ঘুরে এই আর্জেন্টাইন ৩১ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার এখন বাংলাদেশে। অবশ্য বসুন্ধরার স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন তাঁকে খেলিয়ে থাকেন হোল্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে। বসুন্ধরায় যোগ দেওয়ার আগে খেলতেন স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব এক্সত্রেমাদুরায়।বহু দেশ ঘুরে এসে বাংলাদেশে এখন মুগ্ধ তিনি, ‘সত্যি সত্যি আমি বাংলায় আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে খুব খুশি। কারণ আমি খুব সুন্দর এবং শ্রদ্ধাশীল মানুষদের একটি দেশ পেয়েছি এবং সবচেয়ে ভালো কথা হলো বেশির ভাগ মানুষ আর্জেন্টিনার ভক্ত।’