'সরকার যাত্রীদের কষ্ট বুঝল না'

যাত্রাবাড়ী যাওয়ার জন্য গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় মিরপুর ১ নম্বর থেকে বাসে ওঠেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আবদুল বাতেন। ট্রান্স সিলভা পরিবহনের বাসটিতে আগে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ভাড়া ছিল ৪০ টাকা। তাঁর কাছ থেকে ভাড়া আদায় করা হলো ৬০ টাকা। আবদুল বাতেন বলেন, ‘সরকার তো শুধু বাসমালিকদেরটা দেখল। এসব বাসের অধিকাংশ যাত্রীই মোটামুটি সীমিত আয়ের। এসব যাত্রীর কষ্ট সরকার বুঝল না।’ মিরপুর ১ নম্বর থেকে সায়েন্সল্যাব হয়ে যাত্রাবাড়ীর দূরত্ব ১৭ দশমিক ৬ কিলোমিটার। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তালিকা অনুযায়ী ভাড়া ছিল ৩০ টাকা। ৬০ শতাংশ বাড়ানোর পরে যা হওয়ার কথা ৪৮ টাকা। কিন্তু ট্রান্স সিলভা পরিবহন প্রতি যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ১২ টাকা নিচ্ছে। করোনা সংক্রমণের কারণে দুই মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর গতকাল থেকে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি বাস–মিনিবাসের অর্ধেক আসন ফাঁকা রাখতে হবে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় মিরপুর ১ নম্বর বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রান্স সিলভা পরিবহনের বাসে উঠে দেখা যায়, বাসের প্রতিটি সিটের ওপর প্লাস্টিকের কভার লাগানো। একটি আসন পরপর লাল ক্রস চিহ্ন দেওয়া। বাসের ভেতরে নোটিশ টাঙানো, কেউ যেন লাল ক্রস দেওয়া সিটে না বসেন। বাসের চালক মো.অলি বলেন, ‘এটি ৪৩ সিটের বাস। ২২ জন যাত্রী তুলতে বলেছে। রাস্তায় যাত্রী কম। ২২ সিট সেটাও পুরোপুরি ভরে না।’ তবে ওই যাত্রায় বাসটিতে ২২ জন যাত্রীই তোলা হয়। শ্যামলী থেকে বাসটিতে ওঠেন একটি জীবন বীমা কোম্পানির কর্মকর্তা মামুন হোসেন। যাবেন মৎস্য ভবন। চালকের সহকারী ভাড়া নিলেন ৪৫ টাকা। মামুন হোসেন বলেন, ‘কতটুকু পথ এখানে, ৪৫ টাকা ভাড়া? গত মাসে বেতন হইছে ৬০ শতাংশ। বাসাভাড়া, অন্যান্য খরচ তো কমে নাই। এই দুঃসময়ে সরকার যাত্রীদের কথা ভাবল না।’ ঢাকায় বাস চলাচল শুরু ভাড়া বাড়ানো নিয়ে যাত্রীদের ক্ষোভ যাত্রা শুরুর আগে বাসে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে না সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা ও এর আশপাশে মিনিবাসের কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ১ টাকা ৬০ পয়সা। আর বড় বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৭০ পয়সা। মিনিবাসে সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকা এবং বড় বাসে ৭ টাকা। গতকাল থেকে এর সঙ্গে ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া যোগ হচ্ছে। ভাড়াবৃদ্ধির পরে শ্যামলী থেকে প্রেসক্লাবের ভাড়া হওয়ার কথা ২১ টাকা। কিন্তু সিটিং সার্ভিস দাবি করে ট্রান্স সিলভায় এই দূরত্বের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪৫ টাকা। ট্রান্স সিলভা পরিবহনের মহাব্যবস্থাপক মো. মিন্টু প্রথম আলোকে বলেন, সিটিং সার্ভিস হিসেবে তাঁরা আগে নিজেদের নির্ধারিত ভাড়া নিত। ওই ভাড়ার সঙ্গে ৬০ শতাংশের বিষয়টি যুক্ত করেছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ বলছে, প্রতিবার যাত্রা শেষে এবং যাত্রা শুরুর আগে বাসের ভেতরে জীবাণুনাশক ছিটাতে হবে। যাত্রাবাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন গন্তব্যের কোনো বাসই প্রতিবার যাত্রা শেষে জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে না। তবে অনেক বাসের চালকের সহকারীরা যাত্রা শুরুর আগে যাত্রীদের হাতে তরল জীবাণুনাশক দিয়ে দিচ্ছেন। মাঝপথে​র যাত্রীদের হাতেও জীবাণুনাশক দেওয়া হচ্ছে। যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে গাবতলীগামী ৮ নম্বর লোকাল বাসে যাত্রী তুলছিলেন চালকের সহকারী মো. সোহেল। হাতে তরল জীবাণুনাশক ছিটানোর যন্ত্র। তরলে কী মেশানো জানতে চাইলে সোহেল বলেন, ‘ব্লিচিং পাউডার দিলে শরীরের ক্ষতি হয়। মালিক স্যাভলন দিয়ে দিছে।’ ৮ নম্বর বাসের ভেতরে এক আসন ফাঁকা রেখে বসেছেন যাত্রীরা। মতিঝিল থেকে বাসটিতে ওঠেন কামাল উদ্দীন। বেসরকারি চাকরিজীবী কামাল নামবেন গাবতলী। ৩৫ টাকা ভাড়া দিয়ে তিনি বললেন, ‘ভাড়া বাড়ানোর আগে যাত্রীদের দিকটাও ভাবা দরকার ছিল।’