সরকার অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষক: রিজভী

সিকদার গ্রুপের দুই ভাইয়ের বিদেশে যাওয়া এবং সবকিছু খুলে দেওয়া প্রসঙ্গে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষক। আজ মঙ্গলবার এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ কথা বলেন।রিজভী বলেন, এক্সিম ব্যাংকের এমডি-ডিএমডিকে গুলি করার হুমকি এবং নির্যাতনের জন্য মামলায় অভিযুক্ত সিকদার গ্রুপের ভ্রাতৃদ্বয় নাটকীয়ভাবে দেশ ছেড়ে চলে যেতে সক্ষম হলেন। যখন কোভিড-১৯ মহামারির জন্য কিছু চার্টার্ড বিমান ছাড়া সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ, তখন কীভাবে রণ হক সিকদার ও দিপু হক সিকদার বিদেশে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেন, তা নিঃসন্দেহে বিস্ময়কর। এর পেছনে যে ক্ষমতার আশীর্বাদ আছে, সেটি এখন সুষ্পষ্ট। সন্ত্রাসী কায়দায় ব্যাংক লুটকারীদের পালাতে সুযোগ করে দিয়েছে সরকার। সরকারের সহায়তায় এই দুই ভাই পালিয়েছেন অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমান সরকার ব্যাংক লুটকারীদের নানাভাবে সহযোগিতা দিয়ে নিরাপদ করেছিল, এটি তার আরেকটি উৎকৃষ্ট প্রমাণ। সে জন্যই জনগণের জীবনের তোয়াক্কা না করে শুধু জীবিকার অজুহাত দিয়ে গণপরিবহনসহ সবকিছু খুলে দেওয়াতেও প্রমাণিত হয়, এই সরকার অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষক। রিজভী বলেন, সরকার যা কিছু করছে, তা নিজেদের সিন্ডিকেটের স্বার্থকে রক্ষা করতে করছে। এ ছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বিভিন্নজনকে গ্রেপ্তারেরও সমালোচনা করেন তিনি।শর্ত সাপেক্ষে গণপরিবহন চালুর কথা হলেও তা হয়নি দাবি করে রিজভী বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালানো হবে, এই শর্ত দিয়ে অনুমতির কথা বলেছে সরকার। কিন্তু বাস, লঞ্চ, টেম্পো, অটোরিকশাসহ সব ধরনের গণপরিবহনেই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে। ভাড়া বেশি আদায় ও সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না অভিযোগ করে রিজভী বলেন, আসলে সরকার সিন্ডিকেটের কাছেই আত্মসমর্পণ করেছে। এগুলো সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতারই নিদর্শন। সরকার শুধু বিরোধী দল ও মতকে নিষ্পেষণ ও নির্যাতনে সক্ষমতা অর্জন করেছে; কিন্তু দুর্যোগ, মহামারি, দুর্ভিক্ষ এবং জনসাধারণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ।