বিব্রত আনোয়ারা

শুভেচ্ছা জানালে কার না ভালো লাগে! অথচ অভিনেত্রী আনোয়ারাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিব্রত করে ছেড়েছেন তাঁর সহকর্মী ও পরিচিত জনেরা। কেউ অকারণে শুভেচ্ছা জানালে অস্বস্তি লাগারই কথা। কেন শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন সবাই? গতকাল পয়লা জুন হঠাৎ করেই শুভেচ্ছার জোয়ারে ভেসে যাচ্ছিলেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী আনোয়ারা। ফোনও পাচ্ছিলেন একের পর এক। সবাই দীর্ঘায়ু কামনা করছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কীর্তি উল্লেখ করে নানা রকম পোস্ট দিচ্ছিলেন অনেকে। সেই তালিকায় ছিলেন তাঁর সহকর্মীরাও। শুভাকাঙ্ক্ষীদের এসব তৎপরতায় আনন্দিত না হয়ে বরং বিব্রত হয়েছেন আনোয়ারা। অভিনেত্রী আনোয়ারার জন্মদিন পয়লা জুন নয়। গুগল সার্চে পেয়ে দিনটিকে তাঁর প্রকৃত জন্মদিন ভেবে নেন সবাই এবং শুরু করেন শুভেচ্ছা জানানো। গতকাল দিন শেষে আনোয়ারার মেয়ে অভিনয়শিল্পী মুক্তি ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে মায়ের জন্মদিন সংক্রান্ত বিভ্রান্তির অবসান ঘটান। তিনি জানান, তাঁর মায়ের জন্মদিন ১ জুন নয়, ১৭ জানুয়ারি। ওই পোস্টে মুক্তি লেখেন, 'আপনারা যারা আজ আমার মাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তাঁদের সবাইকে মা অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং তিনি আপনাদের উদ্দেশে বলেছেন, ১৭ জানুয়ারি দিনটি যেন আপনারা ভুলে না যান।' মুক্তির পোস্টে অনেকেই এসে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আবার অনেকে অভিনেত্রী আনোয়ারাকে শুভকামনাও জানিয়েছেন। মুক্তির মা হলেও আনোয়ারা ঢালিউডের বহু নায়ক-নায়িকার মা হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিতি ও খ্যাতি কুড়িয়েছেন। আনোয়ারা ঢালিউডের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। তাঁর জন্ম ১৯৪৮ সালে কুমিল্লার হরিপুরে। ষাটের দশকে তিনি সিনেমায় আসেন। তাঁর প্রথম ছবি 'আযান'। শুরুতে তিনি ছিলেন নৃত্যশিল্পী। পরে নায়িকা হিসেবে তাঁকে প্রথম দেখা যায় 'বালা' ছবিতে। আনোয়ারা অভিনীত ছবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য 'কাজল', 'শাদী', 'বন্ধন', 'শীত বসন্ত', 'মিলন', 'একালের রূপকথা', 'সাতরং', 'জানাজানি', '১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন', 'কাগজের নৌকা', 'ক্যায়সে কাহু', 'কার বউ', 'বেগানা', 'নবাব সিরাজউদ্দৌলা', 'শুভদা', 'রাধা কৃষ্ণ', 'গোলাপী এখন ট্রেনে', 'অন্তরে অন্তরে', 'দাদীমা'। অভিনয়ের জন্য একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।