করোনায় মৃত্যু শাবনূর-শাকিবের সিনেমা প্রযোজকের

করোনা এবার থাবা দিয়ে দেশের চলচ্চিত্রে । প্রথম শিকার হয়েছেন চলচ্চিত্র প্রযোজক মোজাম্মেল হক সরকার। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ভাওয়াল পিকচার্সের অন্যতম স্বত্বাধিকারী মোজাম্মেল হক (৫৬) গতকাল সোমবার রাত দশটায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার প্রথম আলোকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন ব্যবসায়িক অংশীদার ও প্রযোজক আবদুল বারেক সরদার। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোজাম্মেল হকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গাজীপুর হোতাপাড়ার বাড়িতে। সেখানে যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে এই প্রযোজকের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী হোতাপাড়ার মনিপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দুপুরে সমাহিত করা হয় তাঁকে।   মোজাম্মেল হক প্রযোজিত ছবিগুলো ব্যবসায়িকভাবে বেশ সফলতা পায়। তাঁর প্রযোজিত ছবিতে অভিনয় করেছেন রিয়াজ, শাবনূর, শাকিব খান ও বুবলীর মতো চলচ্চিত্রের বড় তারকারা। মোস্তাফিজুর রহমান বাবু পরিচালিত ‘তুমি ছাড়া বাঁচি না’ ছবির মধ্য দিয়ে মোজাম্মেল হক ও তাঁর বন্ধুরা সিনেমা প্রযোজনায় নাম লেখান। তাঁদের প্রযোজিত অন্য ছবিগুলো হচ্ছে ‘আগে যদি জানতাম তুই হবি পর’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’, ‘রাজাবাবু’, ‘রংবাজ’, ‘পাঙ্কু জামাই’। আবদুল বারেক সরদার বলেন, ‘ঈদের দুদিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন মোজাম্মেল ভাই। তাঁর মধ্যে করোনার সব উপসর্গ ছিল। এরপর শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকলে গত শনিবার তাঁকে উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। গতকাল সোমবার সকালে শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, ভেন্টিলেশন সাপোর্টের খুব দরকার পড়ে। কিন্তু উত্তরার হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা ছিল না। এরপর যোগাযোগ করে রাতে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। নেওয়ার কিছুক্ষণ পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’ প্রযোজক মোজাম্মেল হক সরকারের মৃত্যুর খবরে শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি। সংগঠনটির সভাপতি খোরশেদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনা কিছুদিন আগেও দূরের মানুষের কাছে ছিল। এখন মনে হচ্ছে, ঘরেই চলে এসেছে। চেনা মানুষেরা আক্রান্ত হচ্ছেন। মারাও যাচ্ছেন। মোজাম্মেল ভাইয়ের মৃত্যুতে চলচ্চিত্রে আঘাত হানল করোনা। খুবই সজ্জন একজন মানুষ ছিলেন। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। পরিবারের সবার জন্য সমবেদনা জানাচ্ছি।’ প্রযোজক মোজাম্মেল হক স্ত্রী, এক মেয়ে, এক ছেলেসহ অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।