স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না, সংক্রমণের আশঙ্কা

পুরান ঢাকা এমনিতেই ঘিঞ্জি এলাকা। তার ওপর এই পাইকারি বাজারে মালামাল আনা–নেওয়ার জন্য ভ্যান, ঠেলাগাড়ি এসব চলতে শুরু করেছে। এতে প্রায়ই যানজট লেগে যাচ্ছে। এই অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফাঁকে ফাঁকে থেকে চলাচল করা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় পুরান ঢাকায় ব্যবসা–বাণিজ্য শুরু হওয়ার পাশাপাশি করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ঝুঁকিও বাড়ছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেল দৃশ্যপট আবার তার স্বাভাবিক রূপে ফিরে আসছে। উর্দু রোড, ইসলামপুর, চকবাজার, বেগম বাজার, মৌলভীবাজারের সরু গলিগুলোতে রিকশা, মালামাল টানার ঠেলাগাড়ি আর মানুষে মানুষে গায়ে গা লাগানো ভিড়। স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা হচ্ছে না মোটেই। লেনদেনও শুরু হয়েছে কিছু। তবে ব্যবসায়ীরা জানান, ঢাকার বাইরে মালামাল পাঠাতে পারছেন না। একদিকে যেমন চাহিদা নেই, তেমনি অন্যদিকে পরিবহনের ভাড়াও বেড়ে গেছে। ফলে বিক্রিবাট্টায় গতি ফিরছে না। বেগম বাজারের দুপুরের কড়া রোদে ভেতরে ভ্যাপসা গরম আর মানুষ ও যানবাহনের জটলা। এখানে স্পঞ্জ ও প্লাস্টিক স্যান্ডেলের বড় পাইকারি বাজার। আবুল হোসেন মার্কেটের রাজ্জাকস অ্যান্ড সনসের ব্যবস্থাপক মো. জুয়েল জানান, মার্কেট খুলেও তাঁদের বিক্রি কম। প্রতিদিন যেখানে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বিক্রি হতো, সেখানে ৫০০ টাকাই বিক্রি হচ্ছে না। যানবাহন ভাড়া অনেক বেশি চাচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মাল নিলে মফস্বলের খুচরা বিক্রেতারা পোষাতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। তাই বাইরে মাল যাচ্ছে না। ঢাকার ভেতরেও খুচরা বেচাকেনা তেমন শুরু হয়নি। বেগম বাজারের ভেতরের দিকে পলিব্যাগ, প্লাস্টিকের সুতলি, কাপ, থালা, স্কচটেপ, স্ট্র—এসবের পাইকারি বাজার। এখানে নাজিরউদ্দিন মার্কেটের জীবন সাথী স্টোরের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোস্তফা জানান, বেচাকেনা কিছু শুরু হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৩০ থেকে ৩৫ ভাগের মতো বেচাকেনা এখন চলছে। মূলত ঢাকার বিভিন্ন এলাকার খুচরা বিক্রেতারা আসছেন মাল নিতে। কাঁচা বাজারে খুচরা বিক্রেতারা এখান থেকে এসব মালামাল কিনে থাকেন। মৌলভীবাজারে মসলা, প্রসাধনী, কাপড়ের রং, লেইস–ফিতা, বেতাম ইত্যাদির বিশাল পাইকারি বাজার। দুপুরে এখানে গিয়ে দেখা গেল রাস্তায় সেই আগের মতো প্রচণ্ড ভিড়। মসলার দোকান রুবেল ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপক ফরিদ উদ্দিন জানান, আগের মতো অতটা না হলেও বেচাকেনা শুরু হয়েছে। রঙের দোকান মমতাজ কালারের ব্যবস্থাপক নাসির উদ্দিন বলেন, তাঁদের বেচাকেনা পোশাকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এবার ঈদের পোশাকের ব্যবসা খারাপ থাকায় তাঁদের ব্যবসাও মন্দা যাচ্ছে। এখন বিক্রি বিশেষ হচ্ছে না। দোকান খুলতে হয়, তাই নিয়ম রক্ষা করে খুলেছেন। যেখানে তাঁদের দোকানে রোজ ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার বিক্রি হয়, সেখানে এখন গত তিন দিনে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ টাকা বিক্রি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উর্দু রোডের পাইকারি পোশাক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এবার ঈদে তাদের তাঁরা ব্যবসা করতে পারেননি। উর্দু রোডের কাবলি পাঞ্জাবির মালিক বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ পোশাক শিল্প সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদ খান জানান, এই এলাকায় প্রায় সাড়ে চার শ পাইকারি পোশাক প্রস্তুতকারী ও বিক্রেতা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বড় প্রতিষ্ঠান প্রায় দেড় শ। এসব দোকানে ঈদ সামনে রেখে প্রতিটিতে প্রায় দুই কোটি টাকা এবং মাঝারি ও ছোট দোকানে গড়ে এক কোটি টাকার লেনদেন। হয়। এই হিসাবে উর্দু রোডে ঈদে প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়। শবে বরাতের দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলায় মাল পাঠানো শুরু হয়। এ বছর তাঁরা ৩০ মার্চ থেকে মাল পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন কিন্তু তার আগে ২৪ থেকেই লকডাউন শুরু হয়ে যায়। ঈদের দুই সপ্তাহ আগে মার্কেট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও সময়টি তখন পাইকারি মালামাল বিক্রির উপযুক্ত ছিল না। অল্প কিছু মালামাল ঢাকার আশপাশে কেউ কেউ পাঠাতে পারলেও সবার গুদামে কোটি কোটি টাকার মালামাল আটকে গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের পর দোকান খুলে তাঁরা খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন কিন্তু তাদের তরফ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে না। শিশু ও মেয়েদের পোশাকের দোকান মিথিলা স্টাইলের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ হোসেন জানান, গত রোববার থেকে দোকান খুলেছেন কিন্তু তিন দিনে কোনো ফরমাশ পাননি। বলছিলেন, ‘সারা দিন দোকান খুলে বসে থাকি, কেউ খোঁজও নেয় না।’