ধরমপাশায় ফের বন্যা, পানিবন্দী হাজার হাজার মানুষ

ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলায় আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার বেশির ভাগ গ্রামীণ সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। আর পানিতে ডুবে থাকায় সড়কের ওপর দিয়ে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। এর আগে গত ২৭ জুন রাতে এই উপজেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, উপজেলায় অন্তত ছয় সহস্রাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এতে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন আশপাশের উঁচু বাড়িতে ও পাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। এলাকাবাসী জানান, ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাাহাড়ি ঢলে ফের বন্যা দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে প্রবল বেগে বন্যার পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। উপজেলায় অন্তত ছয় হাজারের বেশি পরিবারের বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ফরহাদ আহমেদ বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে অন্তত ৬০০ থেকে ৭০০ পরিবার রয়েছে, যাদের বসতঘর ও রান্নাঘরের ভেতরে হাঁটুপানি রয়েছে। এসব পরিবারের লোকজন পাশের উঁচু বাড়িঘর ও বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া ছয় হাজারের বেশি পরিবারকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি ইউএনও স্যারকে জানিয়েছি।’ আজ শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনতাসির হাসান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলায় ফের বন্যার কারণে দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে রোববার থেকে বন্যার্তদের মধ্যে শুকনা খাবার ও জিআরের চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা যাবে।