চুয়াডাঙ্গায় সাংসদ ও মেয়রের সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি মামলা

চুয়াডাঙ্গায় আওয়ামী লীগের সাংসদ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ও পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরীর সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি মামলা করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সদর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পৃথক ধারায় মামলা দুটি করা হয়। সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ভবতোষ রায়কে দুটি মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দারের পক্ষে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাহাবুল হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় রকিবুল ইসলাম, মো. তাওরাত, ইমরান আহমেদ, মিজানুর রহমান, ফারহান রাব্বি ও আরফিন সজিবের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী, সদস্য এবং মেয়র ওবায়দুরের অনুসারী। অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক ওবায়দুর রহমান চৌধুরীর পক্ষে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাহাবুল হোসেন এবং ছাত্রলীগের নেতা অভি জোয়ার্দ্দার, রাজু আহম্মেদ, তানভীর আহম্মেদ, অর্ণব আহম্মেদের নাম উল্লেখসহ ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের সবাই সোলায়মানের অনুসারী। সাংসদের পক্ষে মামলায় অভিযোগ করা হয়, ১৩ আগস্ট জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে জেলা পুলিশ আয়োজিত ‘অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ওয়ার্কশপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সাংসদ ১৬ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড ধরে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও গঠনমূলক বক্তব্য দেন। তবে আসামিরা সাংসদের নামে কুৎসিত মন্তব্যসহ দীর্ঘ বক্তব্যটি সম্পাদনা করে ৩০ সেকেন্ডের একটি অসত্য ও বিকৃতি ভিডিও ফেসবুকে প্রচার করেন। আসামিরা সাংসদের সামাজিক মানমর্যাদা ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে সমাজের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা, বিদ্বেষ সৃষ্টি করে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে ভিডিওটি প্রচার করেন। অন্যদিকে পৌর মেয়রের পক্ষে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২১ জুলাই জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কমিটির সভায় সাংসদ সোলায়মান প্রকাশ্যে বলেন, পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান ভিজিএফের চাল চুরি করেছেন। তিনি পৌরসভা তালাবন্ধ করে দেওয়ার কথাও বলেন। পরে ২৮ জুলাই পৌরসভা চত্বরে ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় সাংসদসহ তাঁর সমর্থকেরা পৌরসভা চত্বরে মেয়রকে গালাগালি করে অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ আগস্ট আসামিরা (সাংসদের সমর্থকেরা) তাঁদের ফেসবুক পেজে মেয়র ওবায়দুরকে নিয়ে কটূক্তিমূলক মন্তব্য পোস্ট করেন। আসামিরা মেয়রের সম্মানহানি ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নসহ উসকানি দিয়ে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন। জেলার পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুটি মামলা করার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এজাহারে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।