হত্যার দায়ে ১৯ বছর পর ২ ভাইয়ের যাবজ্জীবন

বরিশালে একটি হত্যা মামলায় দুই ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার অপর এক আসামিকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। একই ঘটনায় প্রতিপক্ষের করা অপর মামলায় আরও দুই আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে বরিশালের দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মাহবুব আলম ইসলাম হত্যার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলার রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রতনপুর এলাকার বাবুল সিকদার ও তাঁর ভাই জাহাঙ্গীর সিকদার। মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা যায়, মেহেন্দীগঞ্জে ২০০১ সালে পূর্ববিরোধের জের ধরে ব্যবসায়ী মোতাহার হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মোতাহার মেহেন্দীগঞ্জের নতুন খাসেরহাটে ধান, চাল ও ডালের ব্যবসা করতেন। ২০০১ সালের ২৭ মার্চ ডাল বেচাকেনা নিয়ে মোতাহারের সঙ্গে প্রতিপক্ষ বাবুল সিকদারের কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মোতাহার হাওলাদার নিহত এবং তাঁর দুই ভাই মোজাহার হাওলাদার ও মন্টু হাওলাদার গুরুতর আহত হন। প্রতিপক্ষের বাবুল সিকদার ও তাঁর ভাই জাহাঙ্গীর সিকদার গুরুতর আহত হন। মোতাহার হাওলাদার হত্যার ঘটনায় তাঁর ভাই আজাহার হাওলাদার বাদী হয়ে মেহেন্দীগঞ্জ থানায় ১৯ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। অপর দিকে বাবুল সিকদার ও জাহাঙ্গীর সিকদার আহত হওয়ার ঘটনায় তাঁদের মা জয়নব বিবি বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা করেন। মোতাহার হাওলাদার হত্যা মামলায় মেহেন্দীগঞ্জ থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজাহান ১৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ২০০৪ সালে এই মামলার ৮ আসামির নাম প্রত্যাহার করা হয়। দীর্ঘ ১৯ বছর বিচার চলাকালে এই মামলার ৪ আসামির মৃত্যু হয়। আদালত আজ রায়ে বাবুল সিকদার ও জাহাঙ্গীর সিকদারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। এ ছাড়া মামুন চৌকিদার নামে অপর এক আসামিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেন বিচারক। অপর দিকে জয়নব বিবির দায়ের করা মামলায় একই আদালত মোতালেব হাওলাদার ও সিরাজ হাওলাদারকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেন। এই মামলার ৭ আসামির মধ্যে ৫ জনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। নিহত মোতাহার হাওলাদার পক্ষের আইনজীবী মো. আজিজুর রহমান বলেন, বাবুল সিকদার মামলার শুরু থেকেই পলাতক। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।