ধোনিকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মোদির চিঠি

খেলোয়াড়ি জীবনে হৃদয় কেড়েছেন ভারতের শত কোটি মানুষের। খেলোয়াড়ি জীবনকে বিদায় জানিয়ে ভেঙেছেন সেই হৃদয়গুলো! মহেন্দ্র সিং ধোনির অবসরে হৃদয় ভেঙেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও। তাই তো গত শনিবার অবসর নেওয়া ধোনিকে আবেগঘন এক চিঠি লিখেছেন। সেই চিঠি আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ধোনি। ধোনিকে পাঠানো মোদির দুই পৃষ্ঠার চিঠির পুরোটাই আবেগে পরিপূর্ণ। চিঠিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ধোনিকে কখনো ধন্যবাদ জানিয়েছেন, কখনো আবার জানিয়েছেন কৃতজ্ঞতা। ধোনিকে তিনি উল্লেখ করেছেন ‘একজন খেলোয়াড়, একজন সৈনিক, একজন শিল্পী’ হিসেবে। ধোনি অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন একটি ভিডিও বার্তায়। আরও স্পষ্ট করে বললে একটি হিন্দি গান ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে। অমিতাভ বচ্চনের ‘কাভি কাভি’ সিনেমায় মুকেশের গাওয়া ‘মে পাল দো পাল কা শায়ের হু’ গানটা জুড়ে দিয়ে ৪ মিনিট ৭ সেকেন্ডে ভারতের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক ফিরে দেখেছেন তাঁর ১৫ বছরের পথ চলা। খেলোয়াড়ি জীবনে যেমন স্টাইলের সঙ্গে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন, এনে দিয়েছেন সাফল্য; ঠিক সেভাবেই যেন বিদায় নিয়েছেন ধোনি। এভাবে তাঁর বিদায় বলাটাও মন কেড়ে নিয়েছে মোদির। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘তুমি তোমার সেই স্বকীয় ও নিরাভিমান ভঙ্গিতে একটি ভিডিও পোস্ট করলে। যেটা পুরো জাতির আলোচনায় নেমে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। ১৩০ কোটি মানুষ হতাশ হয়েছে। তবে তুমি ভারতের ক্রিকেটের জন্য যা করেছ তার জন্য এই ১৩০ কোটি মানুষ চিরজীবন তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে।’মোদি যে ‘নতুন ভারতের’ স্বপ্ন দেখেন, সেই ভারতের জন্য ধোনি যে বড় এক অনুপ্রেরণা সেটাও চিঠিতে লিখেছেন, ‘এটা নতুন ভারত। যে ভারতে পরিবারের দেওয়া নাম তরুণদের নিয়তি নির্ধারণ করে দেয় না। এখানে তরুণেরাই নিজেদের নাম ও ভাগ্য দুটিই গড়ে নেয়। নতুন এই ভারতের যে স্পৃহার কথা বলা হয় সেটার অন্যতম এক প্রতিচ্ছবি তুমি। কোথায় পৌঁছাতে পারলাম এটা জানার আগে পর্যন্ত আমরা কোথা থেকে এসেছি সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই চেতনাটা তুমি অনেক তরুণকে দিতে পেরেছ।’ধোনির ক্রিকেটীয় কীর্তির সঙ্গে ভারতের সেনাবাহিনীর প্রতি তাঁর ভালোবাসার বিষয়টিও বলেছেন মোদি। একই সঙ্গে তুলে ধরেছেন ধোনির ‘ঠান্ডা’ মাথার নেতৃত্বের কথা, ‘তোমার চুলের স্টাইল কী ছিল সেটা বিষয় নয়। কিন্তু জয় বা হার—সব ক্ষেত্রেই তোমার মাথা থাকত ঠান্ডা। যেটা সব তরুণের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ছোট্ট একটি শহর থেকে সাদামাটাভাবে উঠে আসার পর তুমি জাতীয় দলে নিজেকে দারুণভাবে প্রকাশ করেছ। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো তুমি ভারতকে গর্বিত করেছ।’ এর আগে ভারতের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমানে বিসিসিআইয়ের সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী ধোনির বিদায়কে আখ্যা দিয়েছেন ‘একটি যুগের অবসান’ বলে।