‘আমরা গুম শব্দটা জানতামই না...আজ নেতাদের গুম হয়ে যেতে দেখছি’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকার হাইব্রিড সরকার। ক্ষমতায় থাকার জন্য নির্বাচন থেকে শুরু করে সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে এ সরকার ক্ষমতায় থাকতে চাইছে।বিএনপির সাবেক মহাসচিব আবদুস সালাম তালুকদারের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘কোনো দিন আমরা কল্পনাই করতে পারি যে এই নির্বাচন কমিশন দেশে একটা এই ধরনের ভয়াবহ নির্বাচন করবে। তিন–তিনটা নির্বাচনই তারা একই ধরনের নির্বাচন করেছে। এটা একটা হাইব্রিড সরকার। তারা নির্বাচনকে ব্যবহার করবে তাদের ক্ষমতায় থাকার জন্য এবং করছেও তা–ই। তারা সব প্রতিষ্ঠানকে পুলিশ, সেনাবাহিনী, অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, আদালত সব প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করে বলেছে যে আমরা তো নির্বাচিত সরকার।’ দেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বের হতে হবে জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এদের সরাতে হবে, জনগণকে মুক্তি দিতে হবে এবং সেই মুক্তি দিতে হলে জনগণকে জাগিয়ে তুলতে হবে। জনগণকে জাগিয়ে তুলতে হলে বিএনপিকে আজ দেশের মানুষকে, সব রাজনৈতিক শক্তিকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এদের পরাজিত করতে হবে।’ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ বিএনপির ৩৫ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, এক লাখের ওপরে মামলা। হাজারো নেতা-কর্মী গুম হয়েছে, খুন হয়েছে। ইলিয়াস আলীর মতো নেতা, চৌধুরী আলমের মতো নেতা, লাকসামের পারভেজের মতো নেতাসহ বহু নেতা-কর্মী গুম হয়ে গেছেন। তাঁদের কোনো খোঁজ নেই। আমরা এই পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিতি ছিলাম না। আমরা গুম শব্দটা জানতামই না, গুম কাকে বলে। আজ আমরা আমাদের নেতাদের গুম হয়ে যেতে দেখছি। আমরা দেখেছি খুন করছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলছে এবং মানুষের সব অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আজ সত্যিকার অর্থে প্রত্যেক মানুষ এখান থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম এখান থেকে বেরিয়ে আসতে চায়।’ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে আটক করে রাখা হয়েছে। কারণ, তিনি যদি বাইরে থাকেন, তাহলে এই জনগণকে আটকিয়ে রাখা যাবে না। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বিএনপি লড়াই করছে জানিয়ে বলেন, ‘আমরা কখনো সরে যাইনি। আমরা এর মধ্যে সংগ্রাম করছি, আমরা দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য কাজ করছি। আমরা দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছি, বিভক্ত হতে দিইনি।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।