রিমান্ড শেষের আগেই সাহেদকে আদালতে হাজির, বিচারকের ভর্ৎসনা

পদ্মা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছিলেন ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত। গত সোমবার সাহেদকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু রিমান্ডের চার দিন শেষে বৃহস্পতিবার তাঁকে ওই আদালতে হাজির করা হয়। সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা থাকলেও তা না করে কেন আগেই সাহেদকে আদালতে হাজির করা হয়েছে, সে জন্য মামলার তদন্তকারী দুদক কর্মকর্তাকে ভর্ৎসনা করেছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত সাহেদকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ পুরোপুরি কার্যকর করার নির্দেশ দেন। পরে সাহেদকে আবার দুদকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত থাকা দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর প্রথম আলোকে বলেন, পদ্মা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের মামলায় সাহেদকে সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা থাকলেও তা না করে চার দিন পর হাজির করায় আদালত অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে জানতে চান, সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা থাকলেও তাঁকে কেন চার দিন পর আদালতে হাজির করা হলো। তখন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক শাহজাহান মিরাজ মৌখিকভাবে আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। আদালত তখন তাকে লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করার আবেদন করতে বলেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। পদ্মা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের মামলায় গত ১০ আগস্ট আসামি মোহাম্মদ সাহেদকে সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন আদালত। আদালতের এই আদেশের পর গত ১৭ আগস্ট সাহেদকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে দুদক। গত ১৮ আগস্ট প্রথম দিনের রিমান্ড শেষে রাতে থানা হেফাজতে বুকে ব্যথার কথা জানালে দ্রুত মো. সাহেদকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎ​সকেরা জানান সাহেদ সুস্থ। গত মঙ্গলবার বিকেলে দুদকে এনে তাঁকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। ২০১৫ সালে ফারমার্স ব্যাংকের ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ২৭ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ, ফারমার্স ব্যাংকের নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতিসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। গত ৬ জুলাই উত্তরায় রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। হাসপাতাল থেকে জব্দ করা হয় ভুয়া করোনা রিপোর্ট। পরদিন র‍্যাব বাদী হয়ে উত্তরা-পশ্চিম থানায় মামলা করে। গত ১৫ জুলাই সাহেদকে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। পরদিন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) সাহেদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর পৃথক পাঁচটি মামলায় ঢাকা ও সাতক্ষীরার পৃথক দুটি আদালত সাহেদের ৩৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।