যেখানে বাংলাদেশ হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডকে

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে অনুসারী সংখ্যায় সেরা ভারত। এরপরেই অবস্থান বাংলাদেশের। ২০১০ সাল থেকে ফেসবুক ও টুইটারের দাপট শুরু। গত কয়েক বছরে জনপ্রিয়তার দৌড়ে যোগ দিয়েছে ইনস্টাগ্রাম। পুরো বিশ্বে অর্ধেকের বেশি মানুষ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন। ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরাও বাদ যান না। মাঠের পারফরম্যান্সের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও পারফর্ম করে যেতে হয় আজকাল। দলগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা। ক্রিকেটারদের ছবি, ভিডিও দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমর্থকদের আগ্রহী রাখার চেষ্টা করা হয় সবসময়। ক্রিকেটে এ ক্ষেত্রে ভারতের ধারেকাছে কেউ নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যায় বাংলাদেশ আছে ভারতের পরেই। পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড আছে সেরা পাঁচে। ভারত৫ কোটি ৪২ লাখ ক্রিকেট ভক্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারতের দলের অনুসারী। ফেসবুকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) পেইজে লাইক ২ কোটি ৮৬ লাখ, ইনস্টাগ্রামে অনুসারী ১ কোটি ৩৪ লাখ ও টুইটারে আছেন ১ কোটি ২২ লাখ অনুসারী। অবাক হওয়ার মতো তথ্য নয় অবশ্য এটি। ভারতে ১২০ কোটি মানুষের ‘দ্বিতীয় ধর্ম’ ক্রিকেট। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মারা বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেটার। মাঠের ক্রিকেটের প্রভাবও আছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ভারত গত পাঁচ বছর ধরে তিন সংস্করণের ক্রিকেটে সবচেয়ে ধারাবাহিক দল। বাংলাদেশভারতীয় ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে সবসময় বলেন, ‘পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে ভোর চারটায় বাংলাদেশের খেলা হলেও মাঠে বাংলাদেশি দর্শক উপস্থিত থাকবে।’ ক্রিকেটটা বাংলাদেশের জন্য কতটা আবেগের খেলা, হার্শা ভোগলের এই কথায়ই তা স্পষ্ট। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই দলের অনুসারীদের পিছিয়ে থাকার কথা নয়। ভারতের পরই যেমন বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনুসারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ দলের অনুসারী ১ কোটি ৬৩ লাখ। ফেসবুকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পেইজে লাইকের সংখ্যা ১ কোটি ২২ লাখ, ইনস্টাগ্রামে অনুসারী ১৬ লাখ। টুইটারে ২৫ লাখ সমর্থক বাংলাদেশ ক্রিকেটের খোঁজ খবর রাখেন। সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও মোস্তাফিজুর রহমানরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয়। গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের উত্থান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয়তার বড় কারণ। পাকিস্তানসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাকিস্তান ক্রিকেটের অনুসারী ১ কোটি ১১ মিলিয়ন। ফেসবুকে পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পেইজটিতে লাইক দিয়ে রেখেছেন ৭৪ লাখ পাকিস্তানি। ১১ লাখ অনুসারী টুইটারে, ২৬ লাখ ইনস্টাগ্রামে। নিয়মিত ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা হয় না পাকিস্তানের। তবু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাবর আজমদের সমর্থনের কমতি নেই। অস্ট্রেলিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ড (সিএ) সবচেয়ে ব্যস্ত। প্রায় সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের ছবি, ভিডিও নিয়মিত পোস্ট করা হয়। ইউটিউবেও বেশ সরব অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের আগে পরে সংবাদ সম্মেলন, বিশেষ সাক্ষাৎকার, খেলার হাইলাইটস—সবই পাওয়া যায় অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবস্থাপক ৮৯ লাখ অনুসারীর জন্য কাজ করে যান। ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড বর্তমানে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দলগুলোর একটি। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে তুখোড় দল তাদের। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ও সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রানার্সআপ দল ছিল এউইন মরগানের ইংল্যান্ড। গত পাঁচ বছরে বদলে যাওয়া ইংল্যান্ডের অনুসারীও এখন বাড়ন্ত। ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম ও টুইটার মিলিয়ে ৬৮ লাখ ক্রিকেট ভক্ত ইংল্যান্ডের অনুসারী।