বার্সেলোনার ৮ গোল খাওয়া তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেছে রিয়াল মাদ্রিদ

আট গোলের পর তিন গোল দিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের পার সেমিফাইনাল পর্বও শেষ হয়ে এখন ফাইনালের অপেক্ষা শুরু হয়েছে। কিন্তু বায়ার্নের কাছে বার্সেলোনার ৮ গোল খাওয়া এখনো ভোলা যাচ্ছে না। কোচ সেতিয়েন ছাঁটাই হয়েছেন। নতুন কোচ হিসেবে রোনাল্ড কোম্যান এসেছেন। এসেই চাকরি হারানোর হুমকিও শুনেছেন। তবু ৮-২ গোলে হারের শোক এখনো কাটছে না বার্সেলোনার। আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের এমন হারে অপার্থিব তৃপ্তি খুঁজে নিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়েরা। টানা দ্বিতীয় বছর চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো থেকে বাদ পড়েছে রিয়াল। গত মৌসুমে আয়াক্সের পর এবার ম্যানচেস্টার সিটি তাদের বিদায় জানিয়েছে ইউরোপসেরার প্রতিযোগিতা থেকে। বার্সেলোনা সে তুলনায় রিয়ালের চেয়ে এক ধাপ বেশি এগিয়েছে। গোল–বন্যায় ভাসার আগে অন্তত কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। কিন্তু সে নিয়ে রিয়ালের ভাবতে বয়েই গেছে। একে তো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীরা ৮ গোল খেয়েছে, তার ওপর এ ম্যাচ নিশ্চিত করেছে বার্সেলোনা এবার শূন্য হাতে ফিরছে। রিয়াল আগেই দুটি ট্রফি জিতে নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের হতাশা ভোলার প্রলেপ জোগাড় করে নিয়েছে। ১৪ আগস্ট বার্সেলোনার ভরাডুবির ম্যাচটা তাই আরাম করে উপভোগ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়েরা। নিজেরা আগেই বিদায় নেওয়ায় সে ম্যাচে কারা সমর্থন পাচ্ছিল, সেটা তো আর বলতে হচ্ছে না। আর রিয়ালের খেলোয়াড়দের তুষ্টি বাড়িয়ে একের পর এক গোল করছিলেন মুলার-নাব্রিরা। ওদিকে নিজেদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে হাসিঠাট্টায় মাতছিলেন ক্রুস-মদরিচ-রামোসরা। এক পডকাস্টে সে ম্যাচ নিয়ে জানাতে গিয়ে টনি ক্রুস বলেছেন, ‘সেখানে যা বলা হয়েছে, তার অনেকগুলোই প্রকাশ্যে দেখানোর যোগ্য নয়, কিন্তু নিশ্চিত থাকুন তাতে কেউ মায়া দেখায়নি। খুবই বিদ্বেষপূর্ণ উদ‌যাপন ছিল কিছু।’ বার্সেলোনার এমন বাজে দিনগুলো বরাবরই নাকি উদ‌যাপন করেন রিয়ালের খেলোয়াড়েরা। একদিকে ২০১৫ সালের পর থেকেই চ্যাম্পিয়নস লিগে ব্যর্থ, ওদিকে নিজেরা টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন, ফলে বার্সেলোনাকে নিয়ে মজা করার বেশ ভালো সুযোগই পেয়েছেন ক্রুসরা। তবে সবচেয়ে মজা নাকি তাঁরা পেয়েছিলেন ২০১৭/১৮ সালে। সেবার নিজেদের মাঠে ৪-১ গোলে জিতে পরে রোমার মাঠে ৩-০ গোলে হেরেছিল বার্সেলোনা। সে ম্যাচে ৮২ মিনিটে কস্তাস মানোলাসের গোলে ছিটকে পড়েছিল বার্সেলোনা। সে গোলের পর পর নিজেদের টিম হোটেলেও উল্লাসে মেতেছিলেন কিছু রিয়াল তারকা। ক্রুসের ভাষায়, ‘আমার রুমের সামনে দিয়ে ছোটাছুটি করছিল, চিৎকার করছিল। আমি দেখিনি কে করেছিল কিন্তু নির্ঘাত আমাদেরই কেউ হবে। এখানে (স্পেনে) সবাই এভাবেই ফুটবলকে দেখে।’