২০২১ সালকে পর্যটনবর্ষ ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী

স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষে ২০২১ সালকে পর্যটন বর্ষ হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী।‘বাংলাদেশের পর্যটন: সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এ সেমিনার হয়। এর আয়োজন করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং ‘ভ্রমণ’ ম্যাগাজিন। বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আগামী বছরকে পর্যটনবর্ষ ঘোষণা করতে কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিপ্রাপ্তির পর এ ব্যাপারে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তাঁর নেতৃত্বে পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। নানা কারণে দেশের পর্যটনশিল্পের বিকাশ এত দিন হয়নি জানিয়ে বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এখন পর্যটনশিল্পের বিকাশ নিশ্চিত করা হবে। সব স্টেকহোল্ডারের সুপারিশ শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে। পুরান ঢাকার আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, ছোট কাটরা, জাতীয় সংসদ ভবনসহ ঐতিহাসিক ও পুরাতাত্ত্বিক সব স্থাপনা ব্র্যান্ডিং করা হবে। পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে মাহবুব আলী বলেন, মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দেশের পর্যটনের সম্ভাবনা ও ঘাটতির জায়গাগুলো তারা চিহ্নিত করবে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যটনের উন্নয়নে পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। তবে মনে রাখতে হবে, বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করতে সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা ছাড়া পর্যটনের বিকাশ সম্ভব নয়। পর্যটন বিকাশের জন্য জাতি হিসেবে পর্যটনবান্ধব হতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মহিবুল হক বলেন, এ দেশে পর্যটকদের জন্য প্রকৃত অর্থে সে রকম কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। কক্সবাজারে পর্যটন করপোরেশনের মোটেলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চালু করা হবে। পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের প্রতিটি পর্যটন আকর্ষণে পর্যটকদের উপযুক্ত বিনোদনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মো. মহিবুল হক বলেন, আগামী এপ্রিল থেকে সরাসরি সিলেট-লন্ডন ফ্লাইট চালু করা হবে। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ৯১২ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে নকশাকার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে একটা নকশা দেবে। কক্সবাজার বিমানবন্দর ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার জন্য এর রানাওয়েসহ সার্বিক লাইটিং সিস্টেমের উন্নয়ন করা হচ্ছে। অতিদ্রুত কক্সবাজার থেকে ২৪ ঘণ্টা ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে। ম্যাগাজিন ভ্রমণের সম্পাদক আবু সুফিয়ান আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ, পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান রাম চন্দ্র দাস, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোকাব্বির হোসেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি মল্লিক ফখরুল ইসলাম, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান ও গ্লোবাল টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নওয়াজেশ আলী খান।