করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে বলে গুজবে তোলপাড়

ভারত থেকে ট্রেনে আসা বাংলাদেশি এক যাত্রীর ‘করোনাভাইরাস’ শনাক্ত হয়েছে—নিজ ফেসবুক পেজে এমন স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন বেনাপোল কাস্টমসের একজন কর্মকর্তা। পরে এমন তথ্যকে গুজব উল্লেখ করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরামর্শে গতকাল বৃহস্পতিবার কুমিল্লার ওই ব্যক্তিকে নিরাপদে বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।আইইডিসিআর বলেছে, করোনাভাইরাস শনাক্তের দায়িত্ব কাস্টমসের নয়, স্বাস্থ্য বিভাগের। সংবেদনশীল সরকারি তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘন সরকারি চাকরিবিধির পরিপন্থী। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কারও করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি। এদিকে সিঙ্গাপুরে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত বাংলাদেশি কর্মীর অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। ৩৯ বছর বয়সী ওই বাংলাদেশি সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইনফেকশাস ডিজিজের (এনসিআইডি) নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে ১৩ দিন ধরে চিকিৎসাধীন। সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান গতকাল বিকেলে প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান। কোভিড-১৯ শনাক্ত করতে চীন গতকাল বাংলাদেশকে ৫০০ স্বাস্থ্য পরীক্ষার উপকরণ (কিট) দিয়েছে। ঢাকায় চীনা দূতাবাস ওই উপকরণ আইইডিসিআরের কাছে হস্তান্তর করে। কাস্টমস কর্মকর্তার গুজববেনাপোল রেলস্টেশন ও যশোর জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে যশোর থেকে প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকালে কলকাতা থেকে খুলনাগামী বন্ধন এক্সপ্রেস সকাল ১০টা ১০ মিনিটে বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। ট্রেনে ৬৪ জন যাত্রী ও ১১ জন রেলওয়ের কর্মচারী ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ৬৩ জন ইমিগ্রেশনের কাগজপত্রের কাজ শেষ করান, কিন্তু একজন যাত্রী ইমিগ্রেশনে যাননি। ওই ব্যক্তিকে নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এ সময় বেনাপোল কাস্টম হাউসের একজন সহকারী কমিশনার রেলস্টেশনে গিয়ে রেলওয়ে কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজনকে জানান, ট্রেনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী রয়েছে। এ ছাড়া যশোরের বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার বেলাল চৌধুরী নিজের ফেসবুকে লেখেন, ‘যশোরাঞ্চলে প্রথম করোনা রোগী ধরা পড়েছে’। বিকেলে যশোরের সিভিল সার্জন মো. শেখ আবু শাহীন বলেন, ভারত থেকে আসা ট্রেনের কোনো যাত্রীর করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা যায়নি। এ বিষয়ে ঢাকার আইইডিসিআরের নিয়ন্ত্রণকক্ষে যোগাযোগ করা হয়। আইইডিসিআরের নির্দেশে ওই ব্যক্তিকে নিরাপদে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন আরও জানান, ওই যাত্রীর বাড়ি কুমিল্লায়। গত বুধবার মৈত্রী এক্সপ্রেসে তিনি ভারতে যান। কলকাতা কাস্টমস তাঁকে গ্রহণ না করে টিকিট ছাড়াই বন্ধন এক্সপ্রেসে করে বেনাপোলে ফেরত পাঠায়। ওই ব্যক্তির ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তিনি গত ২৭ জানুয়ারি চীনে গিয়ে ২৯ জানুয়ারি দেশে ফেরেন। ফেরার পরে তিনি ১৪ দিন কোয়ারেনটাইনে ছিলেন। এ কারণেই হয়তো কলকাতা কাস্টমস তাঁকে থাকার অনুমতি দেয়নি। ফেসবুক স্ট্যাটাস সম্পর্কে জানতে যশোরের বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার বেলাল চৌধুরীর ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। করোনাভাইরাস নিয়ে এমন গুজবের ঘটনায় গতকাল আইইডিসিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোনো এক স্থলবন্দরে দায়িত্বরত একজন কর্মকর্তা (স্বাস্থ্য বিভাগ নয়) বিদেশ থেকে আগত একজন যাত্রীকে কোভিড-১৯ সংক্রমিত সন্দেহ করে তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয় সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। এ ধরনের অপেশাদার আচরণ শুধু নৈতিকতাবিরোধীই নয়, সংবেদনশীল সরকারি তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘন-সংক্রান্ত সরকারি চাকরিবিধির পরিপন্থী। কোনো ব্যক্তি কোভিড-১৯ সংক্রমিত কি না, তা নিশ্চিত করার ও প্রকাশ করার সরকারনির্ধারিত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে আইইডিসিআর। আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কারও করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি।