তাঁরা ফুটবলও খেলেন, গানবাজনাও করেন

প্রবাদে আছে, যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। তাহলে যে ফুটবল খেলে সে তো গানও গাইতে পারে! সপ্তাহে একটা-দুটো ম্যাচ তো খেলতে হয়ই। ম্যাচ ছাড়া প্রতিদিন অনুশীলন তো আছেই। চব্বিশ ঘণ্টা ফুটবলে ডুবে থাকতে কাঁহাতক আর ভালো লাগে? তাই তাঁদেরও ইচ্ছে করে এলটন জন, মাইকেল জ্যাকসন কিংবা রিকি মার্টিন হতে। কে তাঁরা? ফুটবলার গায়কদের নিয়েই আজকের আয়োজন। ইয়োহান ক্রুইফ:ডাচ কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রুইফের ‘যোগ্যতা’ শুধু ফুটবল খেলা বা শেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। মাঝে কিছুদিন তাঁরও সাধ হয়েছিল গান গাওয়ার। ১৯৭৩ সালে বিখ্যাত ডাচ গীতিকার পিটার কোয়েলেউইনের লেখা গান ‘ওই ওই ওই’ শোনা গিয়েছিল ক্রুইফের কণ্ঠে। তবে কণ্ঠের মাধুরী দিয়ে মুগ্ধ করার ক্ষমতা যে ক্রুইফের বিশেষ ছিল না, সেটা বোঝা যায় একটা তথ্যের মাধ্যমে। সেই গানের পর আর গান রেকর্ড করার সাহস করেননি গার্দিওলাদের গুরু!ক্রুইফের গানটি শুনুন এখানে -  ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার:ক্রুইফদের হৃদয় ভেঙে ১৯৭৪ বিশ্বকাপ জেতা জার্মান দলের অধিনায়ক ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার ক্রুইফের চেয়ে গানের জগতেও তুলনামূলকভাবে ‘সহনীয়’ ছিলেন। তাঁর গাওয়া ‘গুতে ফ্রুয়েন্দ কান নিমান ত্রেমেন’ গানটা জার্মান টপচার্টের ৩১ নম্বরে ছিল। পরে যদিও ক্রুইফের মতো আর কোনো গান করেননি ‘কাইজার’। বেকেনবাওয়ারের গানটা শুনতে পাবেন এখানে -  ক্রিস ওয়াডল ও গ্লেন হডল:১৯৮৭ সালে এই দুই ইংলিশ তারকা টটেনহাম হটস্পারে সতীর্থ ছিলেন। একসঙ্গে অনুশীলন করতে করতে দুজনের মাথায় ভূত চাপল, গান রেকর্ড করবেন। যেই ভাবা সেই কাজ। জার্মানির বিখ্যাত গায়ক জুটি ‘মডার্ন টকিং’ বা অস্ট্রেলিয়ার ‘স্যাভেজ গার্ডেন’ এর মতো তাঁরাও ‘গ্লেন অ্যান্ড ক্রিস’ নামে দুটি গান রেকর্ড করলেন। এর মধ্যে ‘ডায়মন্ড লাইটস’ গানটা মোটামুটি জনপ্রিয় হয়েছিল, ব্রিটিশ টপচার্টের ১২ নম্বরে ছিল। গানটা শুনুন এখানে -  রুড খুলিত:এক সময়ের বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার নেদারল্যান্ডসের রুড খুলিত আবার একবার গান করে ক্ষান্ত হননি। ১৯৮৪ সালে ‘নট দ্য ডান্সিং কাইন্ড’ গান বের করার পর নিজের দেশে মোটামুটি সাড়া ফেলে দেন এসি মিলান ও চেলসির সাবেক এই মিডফিল্ডার। এর তিন বছর এসি মিলানের থাকার সময় 'সাউথ আফ্রিকা' নামের আরেকটি গান রেকর্ড করেন তিনি। নিজের দেশের টপচার্টের তৃতীয় স্থানে ছিল গানটি। খুলিতের গায়ক-সত্তা দেখে নিন এখানে -  হেসে রদ্রিগেজ:কয়েক বছর আগেও স্প্যানিশ এই উইঙ্গারকে ভাবা হতো রিয়াল মাদ্রিদে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর যোগ্য উত্তরসূরি। কিন্তু বিভিন্ন চোটে চোটে জর্জরিত হয়ে সে প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছেন সামান্যই। কিন্তু তাতে কি আর গান গাওয়া থেমে থাকে? পিএসজি ও রিয়াল বেতিসের সাবেক এই উইঙ্গার ২০১৪ সালে বন্ধু ডিজে নুনোর সঙ্গে একটা ব্যান্ড গঠন করে প্রকাশ করেন ‘ইয়ো সাবিয়া’ নামের একটি গান। ইউটিউবে গানটা প্রায় সাড়ে তিন কোটিবার শোনা হয়েছে। যদিও নিজের আসল নামে গান করার সাহস করেননি হেসে। গানে তাঁর নাম, ‘জে এম’। গানটা শুনুন এখানে -  রয়স্টন ড্রেন্থে:গান গাওয়ার সময় নিজের আসল নাম ব্যবহার করার ইচ্ছে হয়নি রিয়াল মাদ্রিদের আরেক সাবেক তারকা রয়স্টন ড্রেন্থেরও। ‘রয়া২ফেসেস’ নামে তাঁর একটা ইউটিউব চ্যানেল আছে, যে চ্যানেলে তিনি তাঁর অন্তর্নিহিত ‘র‍্যাপার’ সত্ত্বার কথা জানিয়েছেন সবাইকে। চ্যানেলটি দেখে নিন -  পল গ্যাসকোয়েন:নব্বইয়ের দশকে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে প্রতিভাবান ফুটবলার মানা হত পল ‘গাজ্জা’ গ্যাসকোয়েনকে। সেস অময়ে যেখানে বিশ্বের অন্যান্য ফুটবলাররা সুযোগ পেলেই গান করছিলেন, গাজ্জাই বা বসে থাকবেন কেন? বের করেছিলেন ‘ফগ অন দ্য টাইন’ নামের গানটা। তবে গানটা একেবারে তাঁর ছিল না। ব্রিটিশ ফোক-রক ব্যান্ড ‘লিন্ডিসফার্ন’ এর এই গানটা কাভার করেছিলেন তিনি, পরে ওই ব্যান্ডের সঙ্গেই পারফর্ম করেন। গাজ্জার গানটা ইউকে টপচার্টের দ্বিতীয় স্থানে উঠেছিল।গ্যাসকোয়েনের গলার সুর শুনতে ক্লিক করুন -