বাড়িতেই শুটিং হয়েছিল এ পাঁচটি সিনেমার

করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিনোদনের সব দরজা-জানালা এখন বন্ধ। সিনেমাপ্রেমী দর্শকেরা আছেন কেউ নিজের ঘরে আইসোলেশনে, কেউবা হোম কোয়ারেন্টিনে। এই মুহূর্তে সতর্ক এবং শঙ্কার মধ্যেই কাটছে বেশির ভাগ মানুষের দিন। বিশেষজ্ঞরা এই সময়ে শঙ্কিত না হয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্যসচেতন থাকতে, মনকে সতেজ রাখতে। তাই ঘরে বসেই দেখে নিতে পারেন এই ছবিগুলো। আজ যে পাঁচটি ছবির গল্প শোনাব, সেই ছবিগুলোর সিংহভাগ শুটিং একটি বাড়িতেই হয়েছে । বাড়িওয়ালিদুজন কাজের মানুষ ছাড়া বেশির ভাগ সময় একা কাটে বনলতার। তাঁর আছে পুরোনো আমলের একটি বাড়ি। একজন পরিচালক সেখানে একটি ছবির শুটিং করতে আসেন। ধীরে ধীরে শুটিং ইউনিটকে ঘিরেই বাড়তে থাকে বনলতার ব্যস্ততা। বনলতার হবু বরের সাপে কামড়ে মৃত্যু হলে সিদ্ধান্ত নেন বাকি জীবনটা একাই পার করার। দীর্ঘদিন পর বাড়িটি শুটিং ইউনিট আসায় লোকে বেশ গমগম করতে থাকে। বনলতার নিজের মধ্যে দমিয়ে রাখা আকুলতা আবারও যেন জেগে ওঠে মনে। পুরোনো এই বাড়িতে শুরু হয় ‘চোখের বালি’র শুটিং। শুটিং ইউনিটের লোকেরাই হয়ে ওঠে নিঃসঙ্গ বাড়িওয়ালির কাছের মানুষ। ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘বাড়িওয়ালি’ সিনেমাটি দেখে ফেলতে পারেন এক বসায়। বাড়িওয়ালি বনলতার চরিত্রে অভিনয় করা কিরণ খেরের অনবদ্য অভিনয় আপনাকে বাধ্য করবে ছবির শেষ দৃশ্যটি পর্যন্ত দেখতে। চারুলতারবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নষ্টনীড়’ গল্প অবলম্বনে তৈরি হয় ‘চারুলতা’ ছবিটি। পুরো ছবিটির দৃশ্যায়ন হয়েছে বাড়ির মধ্যে। চারুর একাকিত্ব নিয়েই গল্পের শুরু। তাঁর স্বামী ভূপতি পেশায় আইনজীবী। সেই সময়ের উচ্চবিত্ত পরিবারের কর্তা তিনি। বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে চৌকস জ্ঞান তাঁর। কিন্তু চারুর সম্পর্কে বেশ খেয়ালি ভূপতি। চারুর মনের খোঁজখবর অতটা রাখে না ভূপতি। এরই মাঝে চারুর জীবনে আসে অমল। সদ্য পড়ালেখা শেষ করা অমলের সঙ্গে চারুর মেলে বেশ। ভূপতি এবার অমলকে চারুর সাহিত্যপ্রতিভা খোঁজার ভার দিল। চারুর সঙ্গে মিশে অমল বুঝতে পারে চারুর একাকিত্ব। চারুও মনের কথা বলার নতুন মানুষ পায়। লতার মতো আঁকড়ে ধরতে চায় অমলকে। সম্পর্কের এই মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে এগিয়ে চলে গল্প। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায় ও শৈলেন মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় বানালেন এই অনবদ্য ছবিটি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চারুলতাকে সত্যজিতের চোখ দিয়ে দেখতে হলে দেখে ফেলুন ছবিটি। কখনো আসেনিজহির রায়হানের নির্মিত ছবি ‘কখনো আসেনি’। ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৬১ সালে। এই ছবিতে অভিনয় করেছেন সুমিতা দেবী, খান আতাউর রহমান, সঞ্জীব দত্ত, শবনম প্রমুখ। একজন চিত্রশিল্পী আর তার দুই বোন একসঙ্গে রহস্যজনকভাবে মারা যায়। পুলিশ আবিষ্কার করে দুই বোন পাশাপাশি শুয়ে আছে। একই বাড়িতে কিছুদিন পর আসে আরেকজন চিত্রশিল্পী, নাম শওকত আর তাঁর দুই বোন। তাদের সামনের বাড়িতে থাকেন অদ্ভুত আত্মভোলা সৌখিন শিল্পসংগ্রাহক সুলতান। তাঁর সংগ্রহের তালিকায় আছে অনিন্দ্য সুন্দরী মরিয়মের একটি মূর্তি। কিন্তু অদ্ভুতভাবে শওকতের সঙ্গে মরিয়মের পরিচয় হয়। মরিয়ম মূর্তি থেকে ধরা দেয় মানবীরূপে। শওকত তাঁর ছবি আঁকতে চায়। একসময় তারা দুজন দুজনের প্রেমে পড়ে। ছবিটির বেশির ভাগ শুটিং হয়েছে রুমের মধ্যে। অবশ্য এ ছবির সামান্য অংশ রাস্তায় শুটিং হয়েছিল। রুমজয় নিউসাম এবং তাঁর পাঁচ বছরের সন্তান জ্যাক একটি রুমের মধ্যে। এই রুমটি বাইরের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন। একটিমাত্র খোলা ছোট জানালা দিয়ে ঘরে সামান্য সূর্যের আলো প্রবেশ করে। এই রুমে জয় নিউসামকে আটকে রেখে যৌন নির্যাতন করে ওল্ড নিক। ৫ বছরের ছোট জ্যাক জানে না এই ঘর ছাড়াও বাইরের একটি জগৎ আছে। তার মা সিদ্ধান্ত নেয় ছেলেকে বিশাল পৃথিবীর জগৎ সম্পর্কে ধারণা দিয়ে এই বন্দী থেকে মুক্ত করবে। ছেলেকে বন্দী রুম থেকে মুক্ত করার এই গল্পে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ব্রি লারসন। ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেন জ্যাকব ট্রেম্বলে। ছবিটি একই নামের উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালে ‘রুম’ মুক্তি পায়। এ ছবিরও অল্প কয়েকটি দৃশ্য রাস্তায় শুটিং হয়েছিল। নয় নম্বর বিপদ সংকেতহুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত হাস্যরসাত্মক ছবি ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’। ছবিটির পুরো দৃশ্য ধারণ হয়েছে নুহাশপল্লীর ভেতরে। ছবির গল্পে সোবহান সাহেবের সবাই থেকেও নিজ বাড়িতে তিনি একা। তাঁর ছেলেমেয়েরা সবাই ঢাকায় থাকে। নিঃসঙ্গ একাকী জীবনে বেঁচে থাকা নিরর্থক মনে হয় তাঁর কাছে। অগাধ টাকাপয়সার মালিক সোবহান সাহেবের ইচ্ছে ছেলেমেয়ে, নাতিনাতনিরা তাঁর এই প্রকৃতির ভূস্বর্গে এসে থাকবে। বাচ্চারা এই বৃষ্টি বিলাসে গাইবে, নাচবে। এবার ছেলেমেয়েদের গ্রামের বাড়িতে আনতে অভিনব এক বুদ্ধি করেন তিনি। দেখা গেল, পরের দিন একে একে সবাই হাজির হয় বৃষ্টি বিলাসে। হাস্যরসে ভরপুর এই ছবিতে অভিনয় করেছেন আসাদুজ্জামান নূর, রহমত আলী, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, দিতি, তানিয়া আহমেদ, ফারুক আহমেদ প্রমুখ।