আইন করে পরবর্তী ইসি গঠন চেয়ে হাইকোর্টে রিট

সংবিধান অনুসারে আইন করে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম বুধবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন।

রিটে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠন সম্পর্কিত সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়েছে। ‘নির্বাচন কমিশন আইন-২০২১’ নামে একটি আইনের খসড়া প্রস্তাবসহ চিঠি আইন মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান আইনজীবী ইয়ারুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না দেখে রিটটি করা হয়।

রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রস্তাবিত ‘নির্বাচন কমিশন আইন–২০২১’ খসড়ার ভিত্তিতে সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে সুনির্দিষ্ট আইন প্রনয়ণের মাধ্যমে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না—এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। রুল হলে তা বিচারাধীন অবস্থায় পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠন সম্পর্কিত সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়েছে। আইন সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে রিটে।

তিনি জানান, এখন সুপ্রিম কোর্টে অবকাশ চলছে। অবকাশ শেষে ২০ অক্টোবরের পর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে। আইনসচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে রিটে।

কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন ইসির মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি। এরই মধ্যে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে এই রিট আবেদন করা হলো।

এর আগে ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি সংবিধান অনুসারে ইসি গঠনে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে রিট করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৩০ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রুল দেন। রুলে সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন বা বিধান প্রণয়ন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। এই রিটের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ইউনুছ আলী আকন্দ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফাইল না দেখে এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।’