কিউকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন রিমান্ডে

প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিপন মিয়াকে এক দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এই আদেশ দেন।

প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ ও তথ্য বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন হাওলাদার। আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ মামলায় রিপন মিয়াকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে রিপন মিয়ার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে ৩ অক্টোবর কিউকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিপন মিয়াকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ।

পণ্য সরবরাহ না করে ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কিউকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিপন মিয়া, তাঁর স্ত্রী সৈয়দা তাসমিনা তারিন, আরজে নীরবসহ ছয়জনকে আসামি করে ৭ অক্টোবর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা করেন আবদুল্লাহ খান নামের এক গ্রাহক। পরদিন রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আরজে নীরবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সিএমএম আদালত তাঁকে এক দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকম ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাজারমূল্যের চেয়ে কমে পণ্য দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের ধোঁকা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

পুলিশ জানায়, কিউকম প্রায় লক্ষাধিক পণ্য অনলাইনে বিক্রি করত। ক্রেতা আকৃষ্ট করতে তারা ‘বিজয় আওয়ার’, ‘স্বাধীনতা আওয়ার’ ও ‘বিগ বিলিয়ন’ নামে ২ থেকে ১৫ দিন সময় দিয়ে ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকার মোটরসাইকেল ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রির প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু সময়মতো পণ্য সরবরাহ না করায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করেন ক্রেতারা।

সম্প্রতি ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, কিউকমের ৩৯৭ কোটি টাকা তৃতীয় পক্ষের কাছে জমা আছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিপন জানিয়েছেন।