আরব দেশগুলোর সঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চায় ইসরায়েল

রাজনৈতিকভাবে বৈরী সম্পর্কের কারণে বেশির ভাগই এমন সম্ভাবনা দেখেন না। কিন্তু ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আশাবাদী মানুষ। তাঁর বিশ্বাস, আরব দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ইসরায়েলের ২০৩০ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ হওয়ার চেষ্টা সফল হলেও হতে পারে।

এখন বিশ্বকাপ এককভাবে আয়োজন অনেক কঠিন বলেই মনে করেন ইনফান্তিনো। একাধিক দেশ মিলে বিশ্বকাপ আয়োজনই ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখছেন ফিফা সভাপতি।

ইসরায়েলে দুই দিনের সফরে গিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে সাক্ষাতে বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

ফিফা ওয়েবসাইটে দেওয়া বিবৃতিতে ইনফান্তিনো এ নিয়ে বলেন, ‘স্বপ্ন, দূরদর্শিতা ও উচ্চ আকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে। কয়েক মাস আগে দুবাইয়ে থাকতে দেখেছি আরব আমিরাত ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ঐতিহাসিক এক চুক্তি সই করে। আমার মতে, একাধিক দেশ নিয়ে (বিশ্বকাপ) আয়োজনই ভবিষ্যৎ। তাই এ নিয়ে (ইসরায়েল ও আরব দেশগুলো মিলে) স্বপ্ন দেখতে বাধা কোথায়। ফিফা বিশ্বকাপ এমন এক জাদু, যা সব ধরনের মানুষকে এক সূত্রে গাঁথতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বেনেটের অফিস থেকে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আরব আমিরাতের নেতৃত্বে এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশ এবং ইসরায়েলকে নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের ভাবনাকে বেগবান করেছেন ফিফা সভাপতি।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকতে তাঁর প্রশাসন ২০২০ সালে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’ নামে একটি চুক্তি সই করে—এই চুক্তির অধীনে আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান ও মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে।

২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজিত হবে মধ্য প্রাচের দেশ কাতারে। ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজকদের ২০২৪ সালে বেছে নেবে ফিফা।

সংবাদমাধ্যম ‘জেরুজালেম পোস্ট’ আয়োজিত এক সম্মেলনে বিশ্বকাপ আয়োজনের ব্যাপ্তি নিয়ে কথা বলেন ইনফান্তিনো, ‘ফিফা বিশ্বকাপ অনেক বড় আয়োজন। এটা ক্রীড়াযজ্ঞের চেয়েও বেশি কিছু। এটা এমন এক ইভেন্ট যেখানে ৩৫ লাখের বেশি টিকিট বিক্রি হয়। ১৫ লাখের মতো দর্শক এসে থাকে অন্য দেশ থেকে। গোটা বিশ্বের চোখ থাকে আয়োজক দেশের ওপর। প্রায় ৪০০ কোটি মানুষ দেখে থাকে বিশ্বকাপ।’