মেসিকে আতলেতিকোতে আনতে চেয়েছিলেন সিমিওনে

পিএসজি থেকে ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ইন্টার মায়ামি, জুভেন্টাস থেকে ইন্টার মিলান— মেসির বার্সেলোনা ছাড়ার খবর শুনে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের ব্যাপারে আগ্রহী হয়নি, এমন ক্লাব কী আদৌ আছে এ দুনিয়ায়?


সবারই তো আর সামর্থ্য ছিল না মেসিকে নেওয়ার। মেসির মতো তারকাকে দলে টানার সামর্থ্য সবার থাকেও না। তাই বলে ইচ্ছেটাও কী থাকবে না? অমন ইচ্ছের কথা অনেকেই বলেছে। কিন্তু শেষমেশ মেসিকে পাওয়ার দৌড়ে ছিল পিএসজি, ম্যানচেস্টার সিটির মতো টাকার কুমির ক্লাবগুলোই।

এখন শোনা গেল, শুধু এই দুই ক্লাবই নয়, মেসির জন্য আগ্রহী হয়েছিল বার্সেলোনার লিগ প্রতিদ্বন্দ্বী আতলেতিকো মাদ্রিদও!


ব্যাপারটা স্বীকার করেছেন খোদ দিয়েগো সিমিওনে। আর্জেন্টাইন এই ম্যানেজার বহু বছর ধরে আতলেতিকো মাদ্রিদের কোচের দায়িত্বে আছেন। স্বদেশি মেসিকে পাওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনিও ছাড়তে চাননি। খোঁজখবর নিয়েছিলেন, মেসিকে আদৌ বুঝিয়ে-সুজিয়ে ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানোতে আনা যায় কি না। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ওলে-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিমিওনে নিজেই জানিয়েছেন ব্যাপারটা।

তবে সিমিওনে নিজে মেসিকে ফোন করে আসার জন্য দেন-দরবার করেননি। মেসিকে বুঝানোর জন্য সিমিওনের হাতে সবচেয়ে বড় যে অস্ত্রটা ছিল, সে অস্ত্রেরই ব্যবহার করেছিলেন তিনি—লুইস সুয়ারেজকে!


মেসির একদম কাছে যে কজন বন্ধু আছেন, তাঁদের মধ্যে সুয়ারেজ অন্যতম। মেসিকে আতলেতিকোতে আসায় রাজি করানোর জন্য সুয়ারেজকে দিয়েই ফোন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সিমিওনে, ‘একটা গোপন কথা বলি আপনাদের। মেসিকে নিয়ে যখন অত কিছু হচ্ছিল বার্সেলোনাতে (মেসির বার্সা ছাড়ার ব্যাপারটা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়ে যাওয়া), আমরা সুয়ারেজকে বললাম কিছু একটা করার জন্য। আমি লিওকে ফোন দিইনি। কিন্তু আমি সুয়ারেজকে ফোন দিয়ে বলেছিলাম মেসির ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য। আমি জানতে চাইছিলাম মেসি কী ভাবছে। আমাদের কি আদৌ সামান্যতম সুযোগ আছে কি না ওকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে।’

তবে সুয়ারেজ-সিমিওনেদের এই চেষ্টা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি, ‘কিন্তু আমাদের ওই চেষ্টা মেরেকেটে তিন ঘণ্টা স্থায়ী ছিল। পিএসজি ওকে দলে টানার জন্য একদম পাগল ছিল।’
শেষমেশ মেসি পিএসজিতেই নাম লেখান। নেইমার-এমবাপ্পেদের সঙ্গে এখন পিএসজির মাঠ মাতাতে দেখা যায় মেসিকে।