‘খণ্ড খণ্ড পুকুর’ হওয়া নদীটি বাঁচাতে আইনি নোটিশ

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে চাকিরপশার নদ থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও ইজারা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইনি নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। মঙ্গলবার বেলার পক্ষে আইনজীবী সাঈদ আহমেদ কবীর ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে ১১ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ১৫ দিনের মধ্যে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নদের বাধাহীন প্রবাহ ও মৎস্যজীবীদের বাইরে অন্যদের দেওয়া ইজারা বাতিল করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নোটিশে বিল শ্রেণিভুক্ত থেকে চাকিরপশারকে নদ শ্রেণিভুক্ত করার জন্য পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়েরে সচিব, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, ভূমি জরিপ ও রেকর্ড অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর রংপুরের পরিচালক, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক, কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার ও রাজাহাটের সহকারী ভূমি কমিশনারকে এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রাজারহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকেও একই নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ১২ আগস্ট চাকিরপশার দখল নিয়ে ‘নদের ওপর সড়ক, তারপর খণ্ড খণ্ড পুকুর’ শিরোনামে প্রথম আলোতে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

নদীর ওপর সড়ক, তারপর খণ্ড খণ্ড পুকুর

চাকিরপশার নদ সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক খন্দকার আরিফ প্রথম আলোকে বলেন, চাকিরপশার নদটি মূলত তিস্তার একটি উপনদ। দীর্ঘদিন ধরে দখল-দূষণে এটি অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলেছে। নদ রক্ষার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হলেও তাঁরা কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। এমনকি জেলা প্রশাসন গত বছর ২২ জন দখলদারের তালিকা করলেও, এখন পর্যন্ত দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়নি। বেলার আইনি নোটিশ কার্যকর হলে পরিবেশ, প্রকৃতি ও প্রতিবেশ রক্ষা পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জানতে চাইলে রাজারহাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আকলিমা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি বেলার নোটিশ পাঠানোর কথা শুনেছেন। তবে এখনো হাতে পাননি। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে চাকিরপশারকে নদ বলা হলেও সিএস রেকর্ডে এটি বিল শ্রেণিভুক্ত। ফলে ১৯৯৬ সাল থেকে এটির ইজারা হয়ে আসছে। তবে এসএ খতিয়ানে বেশ কিছু জমি ব্যক্তিগত মালিকানায় চলে গেছে। আরএস রেকর্ডে তা সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে। আরএস রেকর্ড সংশোধন করা হলে এসব জমি ফেরত পাওয়া যাবে।