উৎসব আর হালকা আমেজ ছিল ল্যাকমের আসরে

জমকালো পোশাক থেকে হালকা আরামদায়ক পোশাক— ল্যাকমে ফ্যাশন উইকে ফ্যাশন প্রেমীরা জানতে পারলেন চলতি সময়ের ফ্যাশন ধারা।

করোনাকালেও মহাসমারোহে উদ্‌যাপিত হলো ‘এফডিসিআই ল্যাকমে ফ্যাশন উইক ২০২১’। ৬ থেকে ১০ অক্টোবর আয়োজিত এই ফ্যাশন উৎসবের নানা আয়োজন ছিল সরাসরি ও ডিজিটাল—দুই প্রাঙ্গণেই। মুম্বাইয়ের জিও কনভেনশন সেন্টারে বসেছিল সরাসরি আসর। নবীন–প্রবীণ ডিজাইনারদের রংবাহারি প্রদর্শনে জমে উঠেছিল এবারের আয়োজন। উৎসবের রাতের জমকালো পোশাক থেকে হালকা আরামদায়ক পোশাক— সবকিছুরই সন্ধান পাওয়া গেল এই মঞ্চে।

বধূর সাজ তুলে ধরলেন ডিজাইনার অর্পিতা মেহেতা। এই ডিজাইনার নববধূর নানান মেজাজের পোশাক নিয়ে এসেছিলেন। লাল, হালকা গোলাপি, হালকা সবুজ লেহেঙ্গা-চোলির ওপর ভারী এমব্রয়ডারি আর কাচের জমকালো কাজে ছিল অভিনবত্ব। তুর্কিবেশে নববধূকে সাজিয়ে তুলেছিলেন খ্যাতনামা ডিজাইনার জেজে ভালায়া। বধূ সাজের আধুনিক সংস্করণ দেখালেন ডিজাইনার তরুণ তাহিলিয়ানি। ‘দ্য রিইউনিয়ন’ সম্ভারের মাধ্যমে সাবেকি পোশাককে আধুনিকতার রঙে রাঙিয়ে তুলেছিলেন।

‘আইএনআইএফডি জেন নেক্সট’এবারও ল্যাকমের মঞ্চে স্বাগত জানাল দুই নবাগত ডিজাইনারকে। দীপিত ছুঘ আর টুইঙ্কেল হংসপাল—দুই নবাগত ডিজাইনার মেলে ধরেছিলেন পার্টি ওয়্যার থেকে ইজি টু ওয়্যারের সম্ভার। দীপিত পুরুষদের নানা স্টাইলিশ পোশাক প্রদর্শিত করেছিলেন। তাঁর এই আয়োজনে প্রাধান্য পেয়েছে কালার ব্লকিং এবং বেশ কিছু ব্যতিক্রমী প্যাটার্ন। এদিকে টুইঙ্কেলের প্রদর্শনে নজর কেড়েছে ধুতির সঙ্গে ঝালরের শাড়ি, সেই সঙ্গে লম্বা হাতার ব্লাউজ।

ল্যাকমে ফ্যাশন উইকের মঞ্চ থেকে ডিজাইনার হিসেবে পথচলা শুরু করলেন শ্বেতা বচ্চন নন্দা। তিনি মনীষা জয়সিংয়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে ল্যাকমের আসরে জন্ম দিলেন নতুন ব্র্যান্ড ‘দ্য এমএক্সএস’লেবেল। শ্বেতা আর মনীষা ল্যাকমের আঙিনায় জীবন্ত করেছিলেন আশির দশকের ডিস্কো এবং স্ট্রিট ওয়্যার লুক। তাঁরা এই আয়োজনে পার্পেল রেন, মিয়ামি পিঙ্ক, নিওন ইয়ালো, ইউএফও গ্রিনসহ নানা রং নিয়ে এসেছিলেন। এ ছাড়া শ্বেতা আর মনীষা এই মঞ্চে মেলে ধরেছিলেন স্পোর্টি লুকের নানা বাহার।

খ্যাতনামা ডিজাইনার রাজেশ প্রতাপ সিং ৭০ থেকে ৮০ দশকের ফ্যাশন ধারাকে ল্যাকমের মঞ্চে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। কিংবদন্তি ডিজাইনার সত্য পালের ছাতার তলায় তিনি ‘দ্য মাস্টার-স ওয়ার্ডস’ শীর্ষক এক বর্ণাঢ্য পরিবেশন করেছিলেন। রাজেশের এই আয়োজনে মেয়েদের জন্য ছিল সামার শিথ, মিনি, জ্যাকেট উইথ ব্র্যালেট এবং প্যান্ট, ড্রেস, ঝালরের স্কার্ট, টিউনিক, হুডি, জগার, কাফতান, হাঁটু অবধি ঝোলা কোট, পিনাফোর, টোগাস, হল্টার, জ্যাম্পস্যুট এবং বাইকার জ্যাকেটসহ নানা পোশাক। পুরুষদের জন্য ছিল স্যুট, টি-শার্ট, শার্ট ও ট্রাউজার। রাজেশ তাঁর ক্যানভাসে সাদা, লাল, গোলাপি, গেরুয়া, নীল, সবুজসহ নানা রং নিয়ে খেলা করেছেন।

ডিজাইনার পায়েল জৈন ল্যাকমে ফ্যাশন উইকে ‘আর্থ সংগ’ শীর্ষক এক নান্দনিক উপাস্থপনা করেছিলেন। পায়েলের এই সম্ভারের মাধ্যমে সুজানি, শিশো, ভারত, রাবারি, কাওয়ান্ডি ক্যুইলটিং এবং মাশরুর মতো সাবেকি এমব্রয়ডারির পুনর্জন্ম হয়েছে। এ ছাড়া হারিয়ে যাওয়া কাচের কাজ, প্যাচ, লেস, ট্রিম, ট্যাসেল, শেল এবং ব্রিড-কেও তিনি আবার ফিরিয়ে এনেছেন এই মঞ্চে।

ডিজাইনার ডেভিড আব্রাহাম আর রাকেশ ঠাকুর তুলে ধরেছিলেন আরামদায়ক পোশাকের সম্ভার। ঝটপট পোশাকগুলো পরে ফেলা যাবে। পাশাপাশি আব্রাহাম-ঠাকুর স্টাইল আর আধুনিকতা বজায় রেখেছিলেন। তাঁদের আয়োজনে ছিল টিউনিক, প্যান্ট, র‌্যাপ স্কার্ট, জ্যাকেটসহ কিমানোসহ বাহারি সব পোশাক।