টেকসই ফ্যাশনের জয়জয়কার

ল্যাকমে ফ্যাশন উইকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে টেকসই ফ্যাশন। এবারের আসরের চতুর্থ দিনে (৯ অক্টোবর) ‘আর্থ সং’ নামে একটা শো চলেছে। এই শোয়ের উদ্দেশ্য ছিল পোশাকের মাধ্যমে পরিবেশকে ‘ধন্যবাদ’ জানানো। আর বিশ্বের ক্ষতি করে ফ্যাশন নয়—সেই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।    

‘আর্থ সং’ সংগ্রহ নিয়ে হাজির হয়েছিলেন ভারতীয় ডিজাইনার পায়েল জেইন। পায়েল জেইনকে এই কাজে সহায়তা করেছে ‘ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া’। মঞ্চে তিনি দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাওয়া বনাঞ্চল নিয়ে কথা বলেন। কথা বলেন প্রাণ আর পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। ছবিগুলোও তোলা হয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশে।

এই সংগ্রহে পায়েল রঙিন সব রং, হাতে বোনা কাপড় (ফেব্রিক), প্রকৃতির প্রতিনিধিত্ব করে এমন ছাপা, টাই–ডাই আর ওভারসাইজড মোটিফ ব্যবহার করেছেন। এই কাজের অনুপ্রেরণাও এসেছে বন আর প্রকৃতি থেকে।

মহামারিকালে ল্যাকমের এই আসরে আলাদা করে ছিল টেকসই ফ্যাশনের উদ্‌যাপন। কেননা, মহামারিকালে বিশ্ব যখন আক্রান্ত, তখন গুরুত্ব পেয়েছে টেকসই ফ্যাশনের বিষয়টি। তৃতীয় দিনেও আয়োজিত হয়েছে টেকসই ফ্যাশন শো। এখানে পোশাক তৈরিতে গুরুত্ব পেয়েছে ‘জিরো কার্বন ইমিশন’, অর্থাৎ কার্বন নিঃসরণমুক্ত বিষয়টি। ডিজাইনার সত্য পাল ও রাজেশ প্রতাপ সিং জানান, এই পোশাকগুলোতে কেবল টেকসই তন্তু (ফাইবার) ব্যবহার করা হয়েছে। এই পোশাকগুলো তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় একটুও কার্বন উৎপাদিত হয়নি বলে দাবি এই ডিজাইনারদের। এই সংগ্রহের নাম ছিল দ্য মাস্টার’স ওয়ার্ল্ড। এই দুই ডিজাইনারের পোশাকের প্রতিষ্ঠান আছে। সেখানে তাঁরা কেবল টেকসই ফ্যাশন নিয়ে কাজ করেন।

এদিকে রিনা সিংয়ের টেকসই ফ্যাশনের সংগ্রহে গুরুত্ব পেয়েছে স্লো ফ্যাশন। এখানে সিল্ক, মেরিনো উল, কাঁথা ফোঁড়ের কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে। সেই কাপড়ে করা হয়েছে অ্যাপ্লিক, শিবোরি আর হ্যান্ডব্লকের কাজ। সঙ্গে ছিল এমব্রয়ডারি। এগুলোও বেশ সমাদৃত হয়েছে। পাহাড় আর সমুদ্রপাড়ে এগুলোর ছবি তোলা হয়েছে।

টেকসই ফ্যাশনের মাধ্যমে চলতি ধারার পোশাকসংগ্রহ তুলে ধরে কোকোন। ফ্যাশন নিয়ে কাজ করা এই প্রতিষ্ঠানের পরিবেশবান্ধব হিসেবে নামডাক আছে। ‘অ্যাবানডন প্যারাডাইস’ নামে এই সংগ্রহে ছিল ঘুমাতে যাওয়ার পোশাক, ঘরে পরার পোশাক, স্ট্রিট ফ্যাশন, আনুষ্ঠানিক স্যুট, শাড়িসহ নানা কিছু। ভারতের ঝাড়খন্ডের সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত এই ‘উচ্চশ্রেণি’র সংগ্রহ। এসব পোশাক তৈরিতে কোনো কাপড় ফেলে দেওয়া হয়নি। সবই কাজে লাগানো হয়েছে। একেবারে ছোট ছোট কাপড়ের টুকরা দিয়ে পোশাকের সঙ্গে মেলানো গয়না তৈরি হয়েছে।

ল্যাকমে ফ্যাশন উইকের এবারের আসরে যে টেকসই ফ্যাশন গুরুত্ব পাবে, তা তো আগেই জানা ছিল। লকডাউনের প্রায় দুই বছরে মানুষ কেনার চেয়ে একই পোশাক বারবার পরাকে গুরুত্ব দিয়েছে। আর পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব প্রাধান্য পাচ্ছে সবার ওপরে। বড় বড় উৎসব আর ফ্যাশন শোতেও তারকারা টেকসই পোশাককে তুলে ধরেছেন লাল গালিচায়। সব মিলিয়ে, ‘ফাস্ট’ ফ্যাশনের দৌরাত্ম্য কমে আসছে। ফ্যাশনের ভবিষ্যৎ হিসেবে মনোযোগ পাচ্ছে টেকসই ফ্যাশন।