কদমতলীতে তিন খুন: বড় মেয়ে ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

কদমতলী থানার ওসি মীর জামালউদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মেহজাবিনের চাচা সাখাওয়াত হোসেন শনিবার ভোররাতে মামলাটি দায়ের করেন।

মেহজাবিনকে ইতোমধ্যে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, "তাকে সাত দিনের রিমান্ডে চাওয়া হয়েছে। আর তার স্বামী শফিকুল ইসলাম পুলিশ হেফাজতে মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায়, তাকে এখন জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব সম্ভব সহচ্ছে না।”

শনিবার জাতীয় জরুরি সেবার হটলাইন ৯৯৯ এ একটি ফোন পেয়ে ঢাকার জুরাইনের মুরাদপুরে গিয়ে গৃহকর্তা মাসুদ রানা (৫০), তার স্ত্রী মৌসুমী ইসলাম (৪২) ও মেয়ে জান্নাতুল ইসলামের (২০) লাশ পায় কদমতলী থানা পুলিশ।

মাসুদ রানার বড় মেয়ে মেহজাবিন ইসলাম নিজেই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ৯৯৯ এ ফোন করেন। লাশ উদ্ধারের সময়ই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, ৯৯৯ এ ফোন করে মেহজাবিন বলেছিলেন, “তিনজনকে খুন করেছি, তাড়াতাড়ি আসেন, তা না হলে আরও দুইজনকে খুন করব।”

এছাড়া ওই বাড়ি থেকে মেহজাবিনের স্বামী শফিকুল ইসলাম (৪০) এবং তাদের ৪ বছর বয়সী শিশু সন্তানকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পরিবারের সবার প্রতি ‘ক্ষোভ থেকে’ সবাইকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে ‘শ্বাসরোধে হত্যা করেন’ ২৪ বছর বয়সী মেহজাবিন।

‘৩ জনকে খুন করেছি, তাড়াতাড়ি আসেন, নইলে আরও দুজনকে মারব’  

ঢাকার কদমতলীতে ঘরের ভেতরে বাবা-মা-মেয়ের লাশ  

তার স্বামী শফিকুল হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার রাতে তার স্ত্রী তাকে চা দিয়েছিলেন। সেই চা পান করার পর আর কিছু তার মনে নেই।

ডিএমপির ওয়ারি বিভাগের উপকমিশনার শাহ ইফতেখার আহমেদ শনিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, মাসুদ রানা প্রবাসে থাকতেন। তিন মাস আগে ওমান থেকে দেশে ফেরেন তিনি।

“মেহজাবিনের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি, বাবা না থাকায় তার মা তাকে এবং তার ছোট বোনকে দিয়ে দেহ ব্যবসা করাত। এসব নিয়ে প্রতিবাদও করেছিল সে, কিন্তু কোনো ফল হয়নি।

“তার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ছোট বোনকে দিয়ে ব্যবসা চলছিল। এর মধ্যে তার স্বামী ছোট বোনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। এছাড়া মেহজাবিনের বাবা মাসুদ রানা ওমানে আরেকটি বিয়ে করেছেন।”

এসব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ থেকে পরিবারের ‘সবাইকে হত্যার পরিকল্পনা করেন’ বলে মেহজাবিন পুলিশকে জানিয়েছেন।